পাঁচ কিলোমিটারে ছয় মাসে ঝরেছে ২৭ প্রাণ

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক

মুক্তার হোসেন, গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়কটির মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গত ছয় মাসে ঘটেছে শতাধিক দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। সম্প্রতি রাজশাহী সড়ক ও জনপদ বিভাগ জেলা পুলিশ দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে গাড়ির গতি কমানোর জন্য সাইনবোর্ড লাগালেও এর কোনো উপকারিতা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ সড়ক সংস্করণের পর থেকেই বেড়েছে দুর্ঘটনা। এর ফলে সড়ক সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনসাধারণের মনে। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কের চালক সুমন বলেন, হালকা বৃষ্টি হলেই গাড়ির ব্রেক কম কাজ করছে। এছাড়া রাস্তায় বেশি তাপমাত্রায় পিচ গলে চটচটে হয়ে যাচ্ছে। ফলে সঠিকভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। অন্য দিকে আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলোর দুই ধারে ঝোপঝাড়ের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িগুলো আমরা দেখতে পাই না এ কারণেও দুর্ঘটনা বেশি হয়। গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সূত্র মতে, এ বছর সড়কে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু রয়েছে নয় জন। আর শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই চার শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়। এসব দুর্ঘটনায় আরো ৫০ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া গোদাগাড়ী এলাকায় ছয় মাসে ৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিকেরও বেশি মানুষ। গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান বলেছেন, ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনা তার আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করেছে হাজারও মানুষ, এমনকি মৃত্যুর হারও বেড়েই চলেছে। এ বছর যে পরিমাণ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে তা পূর্বের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে থানায় একাধিক মামলা হয়েছে। এছাড়া গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও গাড়ির ড্রাইভারদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। রাজশাহী জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সামসুজ্জোহা বলেন, এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা ওপর মহলে কথা বলেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পূর্বের দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কীকরণ বোর্ড স্থাপন করেছি। তাতেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ডাবল বিটুমিনার সার্ফেসিটি ট্রিটমেন্ট (ডিবিএসটি) বেশি ব্যবহার করার বিষয়ে বলা হলে তিনি বলেন, কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কি কখনো বিটুমিন বেশি ব্যবহার করে বাড়তি খরচ করবে বা করলেও অনুমোদন দিবে না মন্ত্রণালয়। তবে সড়ক মেরামতে কোনো ঘাটতি নেই।