ফাতেমা আক্তার
শুনে কেমন লাগছে তাই না? ২০১১ সালের কথা। তখন ডিজাইনার হিসাবে ভীষণ ব্যস্ত মানুষ আমি। নতুন কিছু করার নেশা। নতুন নতুন উদ্যোগ প্রতিদিন। একদিন চিন্তা এলো—এমন কিছু প্রোডাক্ট করব যার ব্যবহার অনেক রকম হবে। আমার মা, খালা, নানি, বড়ো আপার কথা মনে হলো। শীতে অনেক নারীর পা ফেটে যায়। আমার মায়ের পা ফেটে যেতে দেখেছি। আমি আমার মায়ের পেডিকিয়ার করে দিতাম। বাজারে অনেক ধরনের পা ঘষার ঝামা পাওয়া যায়। কিন্তু মা সেগুলো ব্যবহার করতে পারতেন না, কারণ নিজের হাতে পা ধুতে পারতেন না তিনি। এই ভাবনাটা আমাকে অনেক ভাবাত—কী করা যায়। একজন মা একটা বয়সের পর নিজের অনেক কিছু আর একা করতে পারেন না। তখন নিজের পা নিজে পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এই ফুট সক্রেভ বোল। টুল, মোড়া বা চেয়ার বসে সহজে পা পরিষ্কার করা সম্ভব একা একাই।
২০১১ সালে আড়ংয়ে একমাস মেন্টর ওয়ার্কশপ করানো হলো। একটি প্রোডাক্টে একাধিক উপকার পাবেন একজন ক্রেতা। এই চিন্তা মাথায় রেখে তৈরি করেছি এই বোলটি। এই মেন্টর ওয়ার্কশপ করিয়েছেন Sloan Kulper। তিনি চলে যাওয়ার সময় তাঁর দাদির জন্য এক পিস কিনে নিয়েছেন। এবং খুবই পছন্দ করেছেন। এক ঢিলে দুই পাখি মারার কথা অনেকেই বলে থাকেন। আর এই প্রোডাক্টে মেলে তিন উপকার। যেভাবে ব্যবহার করা যাবে—১. ভর্তা রাখার বোল হিসাবে, ২. মাছ ধোয়ার বোল হিসাবে এবং ৩. পা ধোয়ার বোল হিসাবে। কেউ কেউ রাইস বোল হিসাবেও ব্যবহার করে থাকেন। এই বোলটি বরিশাল জালা বাউফল থাকে আসে। এর কারিগর বিমল পাল খুব দক্ষতার সঙ্গে তৈরি করে থাকেন।