কাল উদ্বোধন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) পরিশোধ পদ্ধতি চালু হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই পদ্ধতিতে ভ্যাট প্রদান ব্যবস্থার উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। এনবিআরের লক্ষ্য রয়েছে শুরু থেকেই নিবন্ধনের আওতায় থাকা সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগের আওতায় আনার। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমে এটি শুরু হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা আরো বিস্তৃত হবে। সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ ইতিমধ্যে একটি আদেশ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধ করার পর ব্যবসায়ীরা মোবাইল ফোনে যে নোটিফিকেশন যাবে, তা যাচাই করে ভ্যাট প্রদানের চালান হিসেবে গণ্য করা হবে।
ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যাটের পুরো কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে এনবিআরের আওতাধীন ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে। বহু আলোচনার পর গত বছর থেকে অনলাইনে নিবন্ধন নেওয়ার কাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভ্যাট রিটার্ন (প্রতি মাসের বিক্রির হিসাব) দাখিলের কাজও শুরু হয় অনলাইনে। তবে অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধ ব্যবস্থাটি না থাকায় ব্যবসায়ীদের ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাটের অর্থ পরিশোধ করতে হতো। এতে ভ্যাট অনলাইনের মাধ্যমে করদাতার হয়রানি কমানোর লক্ষ্যে সরকারের যে উদ্যোগ, তাও বিঘ্নিত হচ্ছিল।
ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অনলাইনে ভ্যাট প্রদান পদ্ধতির উদ্বোধন হবে। এটি চালু হলে মানুষ যে কোনো জায়গা থেকেই ভ্যাটের নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অর্থ জমা দিতে পারবেন। এতে সময় ও ব্যয় উভয়ই সাশ্রয় হবে।
সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এইচএসবিসি, মিডল্যান্ড, প্রাইম ব্যাংকসহ আরো দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধ পদ্ধতি চালু হবে। পর্যায়ক্রমে তা বিস্তৃত হবে। করদাতা ভ্যাটের অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকে অনুরোধ বার্তা পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তা জমা ( ট্রেজারি ডিপোজিট) হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা এনবিআরে রক্ষিত সমন্বিত ভ্যাট প্রশাসন পদ্ধতির (আইভিএএস) তথ্য ভান্ডারে আসবে। আইভিএএস থেকে চালান নম্বরসহ তা করদাতা, সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস, সরকারের মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে (সিএজি) এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন যাবে। এই ইলেকট্রনিক নোটিফিকেশনে উল্লিখিত চালান নম্বর, তারিখ, কমিশনারেট অফিসের কোড এবং জমাকৃত অর্থের পরিমাণ সিএজি অফিস থেকে যাচাই করে তা সঠিক পাওয়া গেলে ভ্যাট অফিস ট্রেজারি চালানের বিকল্প হিসেবে তা গ্রহণ করবে।
মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা বহু আগে থেকে এই ব্যবস্থাপনা অনলাইনভিত্তিক করার জন্য বলে আসছিলাম। অবশেষে তা চালু হতে যাওয়া ইতিবাচক বার্তা। এতে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। আমরা চাই এনবিআরের কর সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা অনলাইনভিত্তিক হোক।
বর্তমানে এনবিআরে ১ লাখ ৬০ হাজারের ওপরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে রিটার্ন জমা দেয়।