ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলমান এই সংকটের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তারল্য সংকট ও সংস্থান, অভ্যন্তরীণ সামর্থ্য এবং দেশের বন্ড মার্কেট বৃদ্ধির জন্য নন-ব্যাংক বা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) আরো এগিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতারা। আগামী দুই বছরের ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএলএফসিএর নবনিযুক্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গত কয়েক বছর ধরে অবদান রেখে চলছে এনবিএফআইর প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে আমাদের ৩৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যার মধ্যে সারা দেশে ২৭৬ শাখায় ৮ হাজার ৩৫৮ জন কর্মকর্তাসহ ২ লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে আমরা ব্যাংকিং সেক্টরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা অর্থাত্ এসএমই খাতে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ, বৃহিশল্প খাতে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ, ডিপোজিটকারীদের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অন্য জনসাধারণকে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ লোন প্রদান করেছি।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেখা যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধনের সামর্থ ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ সেখানে ব্যাংকিং খাতের মূলধনের সামর্থ্য ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া তাদের চেয়ে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়েও আমরা ১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছি নন-ব্যাংক বা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএর কার্যনির্বাহী সদস্য ও আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আরিফ খান বলেন, বন্ড মার্কেট বৃদ্ধি করার জন্য সরকারকে মিউচুয়াল ফান্ডের দিকেও বেশি নজর দিতে হবে। দেশে বন্ড মার্কেটে উন্নয়ন হলে দেশের ব্যাংকিং খাতও উন্নয়ন হবে।
আগামী দুই বছরের ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিএলএফসিএর ভাইস চেয়ারম্যান ও আইআইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারওয়ার ভুঁইয়া বলেন, এই সেক্টরে থাকা সকল কর্মীদের দক্ষতার জন্য বিভিন্ন কর্মশালা, সরকারের সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দূরত্ব কমানো, আইসিটিভিত্তিক উন্নয়ন এবং বন্ড মার্কেট বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশে ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি।
বিএলএফসিএর ভাইস চেয়ারম্যান ও ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি সেক্টরের কাজ ও নিয়মনীতি ভাগ করে দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএলএফসিএর কার্যনির্বাহী সদস্য ও উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এসএম শামসুল আরেফিন বলেন, দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের প্রতিযোগী হতে চায় না।