মালিককে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে তলব
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জের ঘিওরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সড়ক দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকে ম্যানেজ করে পয়লা ইউনিয়নের তেরশ্রী বাজারের উত্তর দিকের নতুন রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন এলাকার প্রভাবশালী টাবলু ঘোষ।
জানা গেছে, পয়লা ইউনিয়নের পশ্চিম পয়লা মৌজায় ১ নম্বর খাস খতিয়ানে আর.এস দাগ নম্বর-৩৭ তেরশ্রী বাজারের উত্তরের দখলকৃত ঐ সড়ক দিয়ে ইউনিয়নের প্রায় সাত-আটটি গ্রামের মানুষ ও দৌলতপুর উপজেলার ১০ থেকে ১২টি গ্রামের সঙ্গে ঘিওর উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সড়কটি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে সরকারি অনুদানে নির্মাণ করা হয়। প্রথমে মাটির রাস্তা, পরে ইটের সলিং এবং বেশ কয়েকবার কার্পেটিং করা হয় এ সড়ক।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন তেরশ্রী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করোনা ভাইরাসের ছুটির কারণে প্রভাবশালী টাবলু ঘোষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জনবহুল ও ব্যস্ততম এই সড়কের একটি অংশ দখল করে দুইতলা পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। এমনকি রাস্তার মোড়ে প্ল্যান ও নকশা ছাড়াই ভবন নির্মাণের ফলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া সড়ক দখল করায় বাজারে জমে থাকা বৃষ্টির পানি গিয়ে দখলকৃত জমির পাশের কাঁচা সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়ক দখল হওয়ায় কয়েক গ্রামের মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সড়কে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে টাবলু ঘোষ অবশ্য সরকারি জমি দখলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তা নিজ সম্পত্তি বলে দাবি করেন। তবে প্ল্যান ও নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। সর্বোপরি তিনি জানান, আগামী ২২ জুলাই উপজেলা প্রকৌশলী তার দপ্তরে কাগজপত্রসহ হাজির হতে বলেছেন।
পয়লা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুন অর-রশিদ বলেন, ‘আমি সরেজমিন গিয়ে টাবলু ঘোষকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বলেছি। বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার কাজ করা যাবে না।’ সরকারি সড়ক দখল করে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান এবং পয়লা ইউনিয়ন শাখার জাসদ সভাপতি মো. রোকন ঢালী বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাকুর রহমান বলেন, ‘সড়কটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত। দখলের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাবলু ঘোষকে সড়কের ওপর থেকে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া ও ভবনের কাজ বন্ধ রেখে শুনানির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।