রওশনের বাসায় কাদের ও এরিক, প্রেসিডেন্ট পার্কে গেলেন সাদ

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল মঙ্গলবার পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে জাপা, এরশাদ পত্নী ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এবং ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট’। পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করলেও অন্যরকম এক দৃশ্যপটের অবতারণা করেছেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং এরশাদের দুই সন্তান। রওশনের গুলশানের বাসায় গেছেন জি এম কাদের। এরশাদ-বিদিশার পুত্র এরিক গেছেন রওশনের বাসায়। আবার এরশাদ-রওশনের ছেলে সাদ এরশাদ গেছেন প্রেসিডেন্ট পার্কে, যেখানে মা বিদিশাকে নিয়ে বসবাস করছেন এরিক।

এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিকালে রওশনের গুলশানের বাড়িতে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দেন জি এম কাদের। এ সময় সেখানে রওশন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ফয়সল চিশতি ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সাদ এরশাদ ও এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার। উল্লেখ্য, জাপার নবম কাউন্সিলের মাধ্যমে জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হওয়ার পর সৃষ্ট নানা বিবাদের পর গতকালই প্রথম রওশনের বাসায় যান জি এম কাদের।

এর আগে সকালে রওশনের বাড়িতে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন এরশাদ-বিদিশার পুত্র এরিক। এ সময় রওশনের সঙ্গে বিদিশারও টেলিফোনে কথা হয়। এরিকও এই প্রথম রওশনের বাসায় যান। রওশনের বাড়িতে সকালের এই দোয়া মাহফিলে জাপার প্রবীণ নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, দলের সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা, এরশাদ ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনুর রশিদ ও ট্রাস্টি ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর অংশ নেন।

এদিকে, এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গৃহীত তিন দিনের কর্মসূচির গতকাল শেষদিনে বিকালে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এরশাদের অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক প্রদান, মিলাদ ও স্মরণসভা হয়। ট্রাস্টের এই আয়োজনে সাদ এরশাদ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মামুন, এরিক এরশাদ, আসিফ শাহরিয়ার ও বিদিশা স্মরণসভায় রাখেন। সাদ ও এরিক প্রায় অভিন্ন বক্তব্যে এরশাদের আদর্শে জাপাকে ঐক্যবদ্ধ রেখে একত্রে কাজ করার প্রতিজ্ঞা করেন। এরশাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাঁদেন বিদিশা।

এরশাদের কবরে পুষ্প প্রদান ও জিয়ারত

দলের নেতাদের নিয়ে সকালে রংপুরে এরশাদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জি এম কাদের। এ সময় তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতেও অংশ নেন। পরে পল্লী নিবাসে আয়োজিত স্মরণসভায় জি এম কাদের বলেন, এরশাদের মৃত্যুতে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন জাপা ভেঙে যাবে। জাপাকে ধ্বংস করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু জাপা টিকে আছে। জাপা এখন অনেক সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, মীর আবদুস সবুর আসুদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সোলায়মান আলম শেঠ, নাজমা আক্তার এমপি, আলমগীর সিকদার লোটন ও জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। রংপুর থেকে ফিরে বিকালে জাপা চেয়ারম্যান তার বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত স্মরণসভায় অংশ নেন। বনানী কার্যালয়ে দিনভর কোরআনখানি হয়।

কাকরাইলে এরশাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা

এদিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার উদ্যোগে কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং কোরআনখানি হয়। কাকরাইল কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত এরশাদের প্রতিকৃতিতে প্রথমে দলের চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদের পক্ষে এবং পরে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দলের কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।

অন্যান্য আয়োজন

দলের কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার তার গুলশানের বাড়িতে, কাজী ফিরোজ রশিদ সাভারে ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা শ্যামপুর কদমতলীতে, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে মিলাদের আয়োজন করেন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা হাইকোর্ট মাজারে মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। পার্টির আরেক অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা সোমবার রাত বারোটা এক মিনিটে কাকরাইল কার্যালয়ে এরশাদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দের উদ্যোগে ও জাতীয় হিন্দু মহাজোট ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পক্ষ থেকে শ্যামপুর শ্রৗ শ্রৗ রামকৃঞ্চ গোস্বামী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, এরশাদের আদর্শে গঠন হতে যাওয়া জাতীয় পল্লী পার্টির (জেপিপি) প্রধান উদ্যোক্তা ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকারের উদ্যোগে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।