ইত্তেফাক রিপোর্ট
রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান পলাতক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের ‘অবৈধ’ সম্পদ ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ৯টি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশন থেকে এই ৯ সংস্থার কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এসব চিঠিতে মোহাম্মদ সাহেদ প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ‘অবৈধ’ সম্পদ অর্জন করেছেন উল্লেখ করে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার মো. সাহেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে দুদক। উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে টিমের অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।
যে ৯ সংস্থার কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক, দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের বিমানবন্দর শাখা ব্যবস্থাপক, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান ((নিপসম), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি এবং এনবিআরের কর অঞ্চল-৯-এর কার্যালয়।
দুদক সূত্র জানায়, মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ, বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাত্, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ঐ ৯ সংস্থার কাছে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের বরাবর পাঠানো চিঠিতে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের উত্তরা ও মিরপুর শাখার ইস্যুকৃত লাইসেন্স ও নবায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত কপি চাওয়া হয়েছে। তলব করা হয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে কোভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষার চুক্তিপত্র, নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান ও বিভিন্ন বিল পরিশোধের সত্যায়িত কপি এবং অধিদপ্তরের কাছে পেশ করার বিলের কপিসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান বরাবর পাঠানো চিঠিতে রিজেন্ট হাসপাতাল ও গ্রুপের নামে-বেনামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব, সাহেদের ব্যক্তিগত হিসাব ও তার পরিবারের সদস্যের নামে থাকা ব্যাংক ঋণের বিবরণসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো চিঠিতে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান পলাতক মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সাহেদ করিমসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।