যশোর-৬ ও বগুড়া-১ উপনির্বাচন

শাহীন চাকলাদার ও সাহাদারা মান্নান জয়ী

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনার মধ্যেই মঙ্গলবার সম্পন্ন হয় যশোর-৬ ও বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন। দুই আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি-জাপা এই আসনের ভোট বর্জন করায় নির্বাচনে নিয়ে ভোটারদের তেমন আগ্রহ ছিল না। নিয়ম রক্ষার এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীই বিজয়ী হয়েছেন। এরা হলেন-যশোরে শাহীন চাকলাদার ও বগুড়ায় সাহাদারা মান্নান।

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের উপনির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। বেসরকারিভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার ১ লাখ ২৪ হাজার ৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ২ হাজার ১২ ও জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭৮ ভোট। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বজলুর রশিদ। নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কোনো পোলিং এজেন্টসহ কর্মী-সমর্থকদের দেখা যায়নি। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান (লাঙ্গল)। তবে বিএনপি এই উপনির্বাচনে ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচন থেকে সরে আসে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে গত ২৮ জানুয়ারি আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ২৯ মার্চ উপনির্বাচনের দিন ধার্য করে ১৬ ফেব্রুয়ারি তপশিল ঘোষণা করে ইসি। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে ২১ মার্চ এ আসনটির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বন্যা ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বগুড়া-১ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। বুথের সামনে ভোটারের কোনো লাইন দেখা যায়নি। এদিকে অধিকাংশ  ভোটকেন্দ্রে  নৌকা মার্কার  এজেন্ট  ছাড়া  অন্য কোনো প্রার্থীর এজেন্টের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহাবুব আলম শাহ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, সাহাদারা মান্নান নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ২১৮ ভোট। অপরদিকে জাপার প্রার্থী মোকছেদুল আলম লাঙ্গলপ্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৯৬৯টি।  নির্বাচনে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থী এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। গত ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ আসনটি শূন্য হয়।