স্পোর্টস ডেস্ক
উয়েফার ফিন্যানসিয়াল ফেয়ার প্লে নীতি ভাঙায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিল সিটি। তবে ক্রীড়া আদালতে আপিল করে সে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছে দলটি। তবে একে ফুটবলের জন্য ভালো ব্যাপার বলে মনে করছেন না লিভারপুল কোচ য়ুর্গেন ক্লপ। টটেনহ্যাম কোচ হোসে মরিনহো তো একে ‘অপমানজনক’-ই বলে বসেছেন!
গেল ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ তদন্তের পর ফিন্যানসিয়াল ফেয়ার প্লে নীতিতে ‘গুরুতর লঙ্ঘন’-এর কারণে ম্যানচেস্টার সিটিকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে উয়েফা। তাদের বিরুদ্ধে ২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দেওয়া হিসাবে গড়মিল ঠেকাতে পৃষ্ঠপোষকদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটির। সঙ্গে ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানার মুখেও পড়েছিল তারা।
তবে এর বিরুদ্ধে কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)-এ আপিল করে রেখেছিল সিটি। গত সোমবার এর রায়ে ‘নির্দোষ’ সাব্যস্ত হয় সিটি, তবে উয়েফার তদন্তে অসহযোগিতার কারণে ১০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয় দলটিকে। এমন রায়কে লিভারপুল কোচ ক্লপ খুব ভালো চোখে দেখছেন না মোটেও। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গতকাল ফুটবলের জন্য ভালো দিন ছিল, এমনটা মনে হচ্ছে না আমার। এফএফপি ভালো একটা পরিকল্পনা যা দলগুলোকে স্বেচ্ছাচারিতায় বাধা দেয়। এটা না থাকলে হয়তো দেশের ধনী ব্যক্তিরা ফুটবলে এসে ইচ্ছেমতো খরচ করার স্বাধীনতা পেয়ে যাবে! তাতে সবকিছু আরো কঠিন হয়ে পড়বে! তাই এই আইনের প্রয়োজন থাকছেই।’
তবে সিটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরাকে অন্যভাবে কার্যকর মনে করছেন ক্লপ। বললেন, ‘আমাদের লিগটা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাতে কোনো দলকে যদি মৌসুমে ১০-১২ ম্যাচ কম খেলতে হয়, তাহলে অন্যদের জন্য সুযোগই থাকে না আর!’
টটেনহ্যাম কোচ মরিনহো অবশ্য এ রায়ের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন। তার প্রশ্ন, সিটি যদি নির্দোষই হয়ে থাকে তাহলে জরিমানা দিতে হচ্ছে কেন? মরিনহোর ভাষ্য, ‘সিটি যদি দোষী হয় তাহলে কয়েক মিলিয়ন ইউরোর জরিমানা অপমানকর। নির্দোষ হলে জরিমানা দিতে হবে কেন? আর দোষী হলেই বা কেন শুধু জরিমানা দিতে হবে? ওদের জন্য তো নিষেধাজ্ঞাই ন্যায্যবিচার! সিটি নির্দোষ হোক বা না হোক, এ রায় যে কোনো দিকেই সমানভাবে অপমানজনক!’