দক্ষিণ চীন সাগর হতে পারে চীনের নতুন ‘মাথাব্যথা’

এ বছরটা চীনের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে। এ পর্যন্ত চীনকে ইতিমধ্যেই যেসব বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে করোনা ভাইরাস, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং নানা অর্থনৈতিক টালমাটাল। এসবের সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রথমবারের মতো বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরের যেসব অঞ্চল চীন নিজের বলে দাবি করছে তা ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’। আমেরিকান নৌবাহিনী ওই এলাকায় তাদের উপস্থিতি এরপর আরো জোরদার করেছে, যার মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে বৈরিতা দ্রুত বেড়েছে এবং একটা কিছু ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীন এবং আমেরিকার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হলেও তাদের মতভেদ এত দিন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে ছিল। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যেও ওই এলাকার মালিকানা নিয়ে আঞ্চলিক বিবাদে কোনো পক্ষ নেয়নি আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্র শুধু ওই অঞ্চলে তাদের জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা দাবি করে এসেছে। এর মধ্যেই এসেছে কোভিড-১৯ মহামারি। এই করোনা প্রাদুর্ভাব চীন প্রথমদিকে কীভাবে মোকাবিলা করেছে তা নিয়ে আমেরিকার সমালোচনা চীনকে ক্ষুব্ধ করেছে। চীনকে নিয়ে আমেরিকার সমালোচনা এবং পম্পেওর মন্তব্যকে আপাতদৃষ্টিতে বেশ কিছু পশ্চিমা নেতাকে সমর্থন করতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে দুই শক্তিধর দেশের মধ্যেকার উত্তাপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ চীন সাগরেও।

চীন মনে করে দক্ষিণ চীন সাগর তার সমুদ্র এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। হাইনান দ্বীপে চীনের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে সামুদ্রিক ঘাঁটি রয়েছে শুধু সে কারণেই নয়, চীনের বিশাল বৈশ্বিক উন্নয়ন প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসাবে সিল্ক রোডের সামুদ্রিক পথও এই সাগর এলাকা। এটা স্পষ্ট যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই সমুদ্র এলাকায় চীন তার মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে। সেখান থেকে ফেরা চীনের জন্য এখন একরকম অসম্ভব। সম্প্রতি পম্পেও দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর চীনের দাবি ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে আনুষ্ঠানিকভাবে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটে যে প্রশ্নটা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তা হলো আমেরিকা আগামী দিনে কী করতে চাইছে। শুধু ওই দ্বীপগুলোর মালিকানার দাবিদার দেশগুলোর সঙ্গে হাত মেলানো নয়, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এর পাশাপাশি আরো বড় শক্তির দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে একটা কূটনৈতিক জোট গড়তে? সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে চীনের দখলে থাকা দ্বীপগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আমেরিকা অবশ্যই রাখে। কিন্তু তার অর্থ হবে চীনের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ বাধানো, যেটা চীন এবং আমেরিকা কারো জন্যই বাঞ্ছনীয় হবে না।