ডাক্তার-নার্সের সংকটে সেবা পাচ্ছে না রোগী

দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সাসেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। মূলত চিকিত্সক ও নার্সের সংকটের কারণে রোগীরা সেখানে গিয়ে সুচিকিত্সা পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটিতে কাগজে-কলমে ৩০ জন চিকিত্সক থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন চিকিত্সক। তার মধ্যে আবার তিন জন অন্যত্র রয়েছেন। ১২ জন দিয়ে চলছে চিকিত্সাসেবা। নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণত ছোটখাটো কাটাছেঁড়া, জ্বর, সর্দি-ঠান্ডা রোগের চিকিত্সা দেওয়া হয়। সিজারিয়ান ও বড় ধরনের অপারেশনের ক্ষেত্রে অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে এই বিভাগের কার্যক্রম। হাসপাতালটিতে রয়েছে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালদের উপদ্রব। কোনো রোগী গেলেই তাকে ছেঁকে ধরে দালালেরা। সংঘবদ্ধ এই দালাল চক্র হাসপাতালে আসা রোগীদের নানান প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের বেশ কিছু স্থানে ফাটল ধরেছে। ইতিমধ্যে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা সত্ত্বেও ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের রাখা হচ্ছে। এতে সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকে রোগী ও তাদের স্বজনেরা। হাসপাতালে কিছু ওষুধ পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে নিতে হয়। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন নেই। আর আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি মেশিন থাকা সত্ত্বেও চিকিত্সক ও টেকনোলজিস্টের অভাবে বাইরে থেকে সেগুলো করাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই দৈন্যদশার সুযোগে চুটিয়ে ব্যবসা করে নিচ্ছে এর আশপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা বেশির ভাগ রোগীকেই এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে দালালদের পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যও সহ্য করতে হচ্ছে রোগীদের। ওষুধ কোম্পানির এসব প্রতিনিধির জন্য নির্ধারিত সময় বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও তা না মেনে যখন-তখন হাসপাতালে আনাগোনা ও রোগীদের বিরক্ত করতে দেখা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাপতি ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান ইতিমধ্যে ডিও লেটার দিয়ে দিয়েছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার কথা তাকে জানানো হয়েছে। তিনি সমাধানের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’ ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, জনবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি ওপরমহলে জানানো হয়েছে। চিকিত্সায় ত্রুটির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।