কয়েক শ কর্মী নিয়ে সৈকতের বর্জ্য পরিষ্কারে নেমেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য পরিষ্কারে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের কয়েক শ কর্মী নিয়ে সৈকত পরিষ্কারের অভিযানে নামেন জেলা প্রশাসক ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন। সৈকতের দরিয়ানগর এলাকা থেকে এই পরিষ্কার অভিযান শুরু করা হয়।

এ সময় ডিসি বলেন, ‘ভেসে আসা নানা ধরনের বর্জ্য সৈকতকে দূষিত করেছে। কারণ এসব বর্জ্যের বেশির ভাগই বোতলজাত ও প্লাস্টিক দ্রব্য, যা আমাদের দেশে ব্যবহার করা হয় না। বিষয়টি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যে কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রায় ১১টি সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠনের কর্মী নিয়ে সৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পড়ে থাকা বর্জ্য অপসারণ করার কাজ শুরু করেছি।’

ডিসি মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত শুধু কক্সবাজারবাসীর সম্পদ নয়, বাংলাদেশেরই সম্পদ। তাই সৈকত পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সবার। সৈকতের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার কাজে যারা এগিয়ে এসেছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। বিচ ক্লিনিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখব আমরা।’

দরিয়ানগর এলাকায় বিচ পরিষ্কারে নেতৃত্ব দেওয়া আনছার হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন বর্জ্য সৈকতে ভেসে আসে। কিন্তু এবার অতিমাত্রায় মদের বোতল, প্লাস্টিকসহ অপচনশীল পদার্থ এসেছে, যা কখনো দেখেনি স্থানীয়রা। সঙ্গে ভেসে আসছে মৃত সামুদ্রিক কাছিমসহ নানা উভয়চর প্রাণীও। বিভিন্ন সংগঠনের মতো আমরা স্থানীয় শতাধিক যুবক জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সৈকত পরিষ্কারে নেমেছি।’

টিম কক্সবাজারের সমন্বয়ক নাজমুল হক বলেন, গত কয়েক দিনে নাজিরারটেক থেকে হিমছড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকার বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি মৃত কাছিম ও বন্য প্রাণী মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। অবমুক্ত করা হয়েছে প্রায় দুই ডজন জীবিত কাছিম। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার, কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হুদা, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) ইমরান জাহিদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।