এই করোনার দুর্যোগকালেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়মের যে চিত্র পাওয়া যাইতেছে, তাহা এক কথায় খুবই হতাশাজনক। করোনার টেস্ট লইয়াও যে তেলেসমাতি হইতে পারে, তাহা ছিল একেবারেই অকল্পনীয়। মানুষ এখন মহামারির প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কিত। ডাক্তার-নার্সসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ করোনায় আক্রান্ত হইয়া মারা যাইতেছেন। তাহার মধ্য দিয়াও একশ্রেণির লোভী মানুষ নিজেদের আখের গুছাইয়া নিতেছেন। তাহারা যে করোনার চাইতেও ভয়ংকর, তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই। আমরা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের হতদশা দেখিয়াছি, দেখিয়াছি বত্সরের পর বত্সর বিভিন্ন চিকিত্সা-সরঞ্জাম বাক্সবন্দি হইয়া পড়িয়া থাকিতে। কিন্তু দুইটি সি অ্যাম্বুলেন্সের যে কাহিনি একটি সহযোগী দৈনিকে ছাপা হইয়াছে, তাহা পড়িয়া আরেকবার হতাশ হইতে হয়। সাগরবেষ্টিত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে স্বাভাবিকভাবেই যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিকূল। এইখানে বাস করে ৪ লক্ষ মানুষ। রাত্রিকালে তাহাদের কেহ অসুস্থ হইলে তত্ক্ষণাত্ হাসপাতালে লইয়া যাওয়া কঠিন। বহু কষ্টে ট্রলার বা স্পিডবোট সংগ্রহ করিয়া বহু দূরের সমুদ্র উত্তাল পথ পাড়ি দিয়া হাসপাতালে যাইতে হয়। ইহাতে অনেক সময় রোগী পথিমধ্যেই মারা যায়। এই জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা ছিল সি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। প্রধানমন্ত্রী তাহাদের আবেদনে সাড়াও দিয়াছেন। কিন্তু তাহাদের দেওয়া ১ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি সি অ্যাম্বুলেন্সের কোনোটিরও সুফল তাহারা আজ অবধি পান নাই। এক দিনের জন্যও সি অ্যাম্বুলেন্স দুইটি পানিতে নামে নাই।
আজ হইতে ১৩ বত্সর পূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য ৩২ লক্ষ টাকায় ক্রয় করা হইয়াছিল প্রথম সি অ্যাম্বুলেন্সটি। পরেরটি ক্রয় করা হয় পাঁচ বত্সর আগে ৬৫ লক্ষ টাকায়। কিন্তু দুইটি সি অ্যাম্বুলেন্সের কোনোটির জন্যই নিয়োগ দেওয়া হয় নাই চালক। বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই জ্বালানি। ফলে এই করোনাকালে আগের চাইতেও অধিক দুর্ভোগ পোহাইতেছেন সন্দ্বীপের বাসিন্দাগণ। সি অ্যাম্বুলেন্স দুইটির একটিরও নাই উত্তাল সাগর পাড়ি দেওয়ার মতো ফিটনেস। হাওর অঞ্চলে চলাচলের উপযোগী এই যান দুইটি কোন বিবেচনায় সন্দ্বীপে পাঠাইয়াছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, তাহা বোধগম্য নহে। মূল্য অধিক ধরিবার মাধ্যমে দুর্নীতিরও আশ্রয় নেওয়া হইয়াছে। আবার অব্যবহারের কারণে বর্তমানে সি অ্যাম্বুলেন্স দুইটি বলিতে গেলে অচল ও পরিত্যক্ত। ইহার জন্য যাহারা দায়ী তাহাদের কি কোনো শাস্তি হইবে না? নেওয়া হইবে না বিভাগীয় ব্যবস্থা? আমরা মনে করি, সন্দ্বীপের মানুষের হাতের নাগালে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পৌঁছাইয়া দিতে হইলে সেইখানে উন্নত মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রভৃতি স্থাপন করা আবশ্যক। সি অ্যাম্বুলেন্স দুইটি মেরামত করিয়া এবং ইহার নির্মাণগত ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করিয়া তাহার জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া দরকার। ইহা ছাড়া যে কোনো চিকিত্সা সরঞ্জাম দেওয়ার পূর্বে টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন জনবল নিয়োগের ব্যাপারে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হইবে।