বন্যার্তদের দিকে মানবিকতার হাত বাড়াই

জসীম উদ্দিন

কিছুদিন যাবত্ টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় অনেক জেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা। আর এসব জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদাপন্ন রয়েছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, জামালপুর, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার কিছু অংশ। কারণ যমুনা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রসহ প্রায় সব নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সেসব জেলাকে প্রবলভাবে প্লাবিত করছে। ফলে অবস্থার দিনদিনই অবনতি হচ্ছে। তাছাড়া এর মধ্যে কিছু জেলায় এখনকার বন্যা টানা দ্বিতীয়বারের মতো। আগের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির সামাল না দিতেই চলে এসেছে দ্বিতীয় বন্যা। এ বন্যা দ্বিতীয়বারের মতো মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড়-চোপড় এমনকি রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে দিয়েছে। অনেকে আবার মৃত্যুর কবলে পড়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে গৃহপালিত পশু, গৃহপালিত পাখি। ফলে ঐসব এলাকার মানুষের চারদিকে শুধু হাহাকার আর অভাব-অনটনের হূদয়বিদারক যন্ত্রণা। উপরন্তু বর্তমানে দেশে চলছে করোনার মহামারি। সকলের আজ গৃহবন্দি জীবন। আয়- উপার্জনের কথা এখনকার সময়ে যেন কল্পনাতীত। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে মানুষের যেখানে আয়-রোজগারের পথ একেবারেই বন্ধ রয়েছে সেখানে সেসব জেলার মানুষের ওপর বন্যার প্রকোপ যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে গত্বাঁধা বসবাস করতে তাদের মাঝে রয়েছে করোনার ভয়। প্রতিনিয়তই সে ভয় তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এরই পাশাপাশি তাদের মাঝে নতুন আরো এক সমস্যার হাতছানি; পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণা, পরিধানের বস্ত্র সংকট আর পান করার বিশুদ্ধ পানির অভাব। অর্থাত্ এমন করুণ পরিস্থিতি তাদের জন্য সত্যি কষ্টকর। অথচ সেসব এলাকার মানুষ এমন করুণ অবস্থায় রোজ দিনাতিপাত করছে। তাই এই ক্রান্তিলগ্নে ঐসব এলাকার মানুষের পাশে বিত্তবান ও সুশীল সমাজের এগিয়ে আসা জরুরি। বন্যার্তদের মাঝে চারপাশে থাকা বিত্তবান ও সুশীল সমাজ যথাসাধ্য সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিক এবং দেশব্যাপী স্থাপন করুক উদার মানবিকতার দৃষ্টান্ত যা আজ সকলের কাম্য।

n লেখক :শিক্ষার্থী , আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়