মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা শাজাহান সিরাজকে গতকাল রাতে রাজধানীর বনানী গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় জানাজা তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। মরদেহ ঢাকায় এনে বাদ এশা গুলশান সোসাইটি মসজিদে তৃতীয় নামাজে জানাজা হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা তাবিথ আওয়াল, ইশরাক হোসেন, শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, শাজাহান সিরাজের দুইটি জানাজা কালিহাতীতে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল এগারটায় উপজেলার এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা ও কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে দুপুর ২টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল মানুষ অংশ নেন। ইউএনও শামীম আরা নিপার নেতৃত্বে গার্ড অব অর্নার দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী, আওয়ামী লীগ নেতা মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ, বিএনপি নেতা লুত্ফর রহমান মতিন, মো. শুকুর মাহমুদ, কালিহাতীর পৌরমেয়র আলী আজগর জব্বার, এলেঙ্গার পৌরমেয়র মো. নূর এ আলম সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ সমাজের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শাজাহান সিরাজের মরদেহ ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পৌঁছালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উপস্থিত মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মঙ্গলবার চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শাজাহান সিরাজ। বর্ণাঢ্য এই রাজনীতিবিদের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ, টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার বেতডোবাতে। শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘চার খলিফা’ হিসেবে পরিচিত চার ছাত্রনেতার এক জন। মুজিব বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।