নিলুর ছোটমামা অনেকদিন পর তাকে দেখতে এসেছে। এ কারণে নিলু একটু রাগ দেখালেও মামা কোলে নিতেই নিলুর সব রাগ গলে যায়। নিলুর ছোটমামা মানেই মজার মজার গল্প। ছোটমামা যে কত গল্প জানে, তার কোনো হিসাব নাই। সে সব গল্প নিলুর শুনতে খুব ভালো লাগে। নাস্তা খেয়ে মামার পাশে গিয়ে বসে নিলু। বায়না ধরে গল্প শোনার। ছোটমামা গল্প বলতে পারলে খুশি। তাই আর দেরি করলেন না।
—আজ তোকে ভূতের সত্যি গল্প শোনাব!
—ভূতের গল্প?
—হ্যাঁ। শোন, সেদিন আমি বাজার থেকে ফিরছিলাম। সময়টা সন্ধ্যে হলো মাত্র। চারদিকে অন্ধকার। লোকজনও নাই। ঝিঁঝি পোকা ডাকছিল অনবরত। আমিও একমনে হাঁটছিলাম। হঠাত্ কার যেন কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম।
—কান্না!
—হ্যাঁ। কান্না! ছোট বাচ্চার কান্না। আশপাশে কোথাও কারো দেখা না পেয়ে একটু ভয় পেয়ে গেলাম! তাড়াতাড়ি হাঁটতে লাগলাম। এবার পেছনে কার যেন হাঁটার শব্দ শুনতে পেলাম। পেছন ফিরলে কেউ নাই। এবার বেশ ভয় পেলাম! কিন্তু ভয় পেলে তো হবে না! মনে সাহস এনে বললাম, কে? কে কাঁদে? দেখি কারো সাড়াশব্দ নাই। আবার বললাম, কে, সাহস থাকলে সামনে আয়! কে বলছি! উত্তর দে, না হলে খুব খারাপ হবে বলে দিলাম! এবার কে যেন কথা বলে ওঠে, ‘আমি!’ আমি কে? ‘আমি ভূতড়ু।’ ভূতড়ু কে? ‘ভূতের বাচ্চা! আমার বয়স একশ বছর।’
—মামা, একশ বছর বয়স হলে সে বাচ্চা কেমনে হয়?
—ভূতরা একশ বিশ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চা থাকে। তারপর আমি ভূতড়ুকে জিজ্ঞেস করি, আমায় কেন ভয় দেখাচ্ছিস? ‘আমি ভয় দেখাতে চাই না! আমি নিজে ভয় পাচ্ছি!’ ভূতরা আবার ভয় পাই নাকি! ভয় পেলে তবে এখানে কেন! বাড়ি ফিরে যাও। ‘আমি সন্ধ্যার সময় বন্ধুদের সাথে জোনাকির আলো খেতে বের হয়েছিলাম। ঘুরতে ঘুরতে কবে যে বন্ধুদের থেকে দূরে চলে এসেছি জানি না। তারা আমায় ফেলে ফিরে গেছে আর আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি। আমার খুব ভয় লাগছে! আমি কুকুর ভয় পাই। তারা আমাদের দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে ওঠে! আমায় একটু বাড়ি পৌঁছে দাও না!’ আমি কীভাবে তোমায় বাড়ি পৌঁছাবো? তোমার বাড়ি তো আমি চিনি না। ‘আমাদের বাড়ি শাপলা পুকুর ধারের বাঁশ ঝাড়ে!’ ও! সে বাঁশঝাড় তো সামনেই। তুমি আবার আমার ক্ষতি করবে না তো? ‘না না, ভূতরা যা বলে তার বরখেলাপ কখনো করে না। তোমার কোনো ক্ষতি করবো না।’ চলো তবে তোমায় ফিরিয়ে দিই। তবে মনে রাখবে একা একা আর কখনো বের হবে না। মা-বাবাকে বলে বের হবে। তারা এখন হয়তো তোমার জন্য অনেক চিন্তা করছেন। বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়! আমি হাঁটতে থাকি ঐ বাঁশঝাড়ের পথে। এমন সময় একটা ছোট হাত আমার হাতের আঙুল ধরে। তুলতুলে নরম একটা হাত! ভূতড়ু আমায় ধরল তা বুঝতে পেরে ভয় না পেয়ে এগিয়ে গেলাম। বাঁশঝাড়ের কাছাকাছি আসতেই ভূতড়ু বলে ওঠে, ‘ঐ যে আমার বাড়ি! বাঁকা হয়ে থাকা ঐ বাঁশটাতেই আমি থাকি।’ আচ্ছা যাও তুমি। তবে আর কখনো এভাবে একা একা ঘুরবে না! বলেই ভূতড়ুকে বিদায় দিলাম। ভূতড়ু দৌড়ে বাড়ি ফিরে গেল!
—তোমার ভয় লাগেনি মামা?
—প্রথম প্রথম লাগলেও এখন লাগে না!
—ও কি তোমার বন্ধু?
—হ্যাঁ। একদিন তোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো!
—না বাবা! আমার ঐ বন্ধু লাগবে না!
এমন সময় নিলুদের কুকুরটা ডেকে ওঠে। নিলু ভয়ে মামাকে জড়িয়ে ধরে! মামা হেসে বলে, চল তোর মায়ের কাছে যাই। নিলু মামার হাত ধরে মায়ের কাছে যায়। যেতে যেতে নিলু ভাবে, ইস! সে যদি ভূত হতো!
অলঙ্করণ :মাশরুর রহমান মুহিত
সপ্তম শ্রেণি, বি.এ.এফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা