বন্ধুরা, তোমরা কি কখনো রাতের বেলা ঝোপ বা জঙ্গলে আলো দেখে ভয় পেয়েছ? ভেবেছ বাতাসে মনে হয় কোনো ভূত উড়ে বেড়াচ্ছে? কিন্তু না আসলে তুমি যা দেখেছ তা একটি প্রাকৃতিক ঘটনা মাত্র যার নাম আলেয়া। বিজ্ঞানের জাদুর এ পর্বে সবাইকে স্বাগতম।
আজকে আমরা জানব আলেয়া রহস্য সম্পর্কে। আলেয়া বা পরির আলোকে আমরা ভূত ভেবে ভয় পেয়ে থাকি। আলেয়াকে ইংরেজিতে বলে will-o’-the-wisp বা Ignis Fatuus। বাংলায় একে বলে ‘আলেয়া ভূত’ বা ‘পরির আলো’। কিন্তু আলেয়া আসলে ভূত বা অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনা নয় বরং একটি মজার জৈব রাসায়নিক ঘটনা।
আলেয়ার আলো নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক ভৌতিক ঘটনা প্রচলিত। মজার ব্যপার হলো, আমিও একদিন আলেয়া দেখে ভয় পেয়েছিলাম। পরে অবশ্য জানতে পারি তার আসল রহস্য ।
১৭৭৬ সালের আগে আলেয়া নিয়ে মানুষের তেমন কোনো ধারণা ছিল না। ওই সময় আলেসান্দ্রো ভোল্টা নামে একজন বিজ্ঞানী মিথেন গ্যাস আবিষ্কার করেন এবং দাবি করেন আলেয়ার পেছনে মিথেন গ্যাস দায়ী। প্রথমে তার কথা কেউ বিশ্বাস করেনি। পরবর্তী সময়ে ভোল্টার কথার সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং আবিষ্কৃত হয়—মিথেন এবং ফসফিন গ্যাসের জন্য তৈরি হয় আলেয়ার আলো।
গাছপালা বা প্রাণী মরে গেলে তার মধ্যে পচন শুরু হয়। পচন দুইভাবে হতে পারে। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে অথবা অক্সিজেন ছাড়া এনেরোবিক ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে। গাছপালা বা প্রাণীর দেহ কার্বন, নাইট্রোজেন, প্রোটিন দিয়ে গঠিত। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে খোলা পরিবেশে গাছপালা বা প্রাণীদেহ পচলে তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড, শক্তি এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ। কিন্তু স্যাঁতসেঁতে মাটিতে গাছপালা বা প্রাণী মরে যদি মাটির নিচে চাপা পড়ে তখন অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পচন হয়। তখন তৈরি হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, ফসফিন, নাইট্রোজেন গ্যাস এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ । ফসফিন গ্যাসের বিশেষত্ব হলো—এই গ্যাস যখন বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে এবং জ্বলতে থাকে। একে তখন নীল দেখায়। মিথেন গ্যাস বা প্রাকৃতিক গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ তাই ফসফিনের আগুন থেকে মিথেন গ্যাসও তখন জ্বলতে শুরু করে। নাইট্রোজেন এবং ফস্ফিনের কারণে আলেয়াকে ধোঁয়াটে নীল দেখায় এবং এদিক ওদিক বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তখন মনে হয় হয়তো কোনো নীল পরি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তাহলে বন্ধুরা, আশা করি এখন তোমরা জানো আলেয়ার রহস্য কী। তাই আলেয়া দেখলে ভয় না পেয়ে দাঁড়িয়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করবে।