সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল থেকেই ক্রিকেটারদের পদচারণায় সরব হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। প্রাণ ফিরবে দেশের হোম অব ক্রিকেটে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত চার মাস কার্যত মিরপুর স্টেডিয়াম বন্ধ ছিল, পা পড়েনি ক্রিকেটারদের। সম্প্রতি ক্রিকেটারদের স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বিসিবি। সেটাও শুধু ফিটনেস-বিষয়ক অনুশীলনের জন্য। জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার থেকেই জিম, মাঠ ব্যবহার করতে পারবেন আগ্রহী ক্রিকেটাররা।
করোনাকালেই ক্রিকেটারদের এমন সুযোগ দিতে গিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে বিসিবিকে। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়েছে। একটা ট্রেনিং সূচিও তৈরি করেছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। কীভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তার রূপরেখা ঠিক হয়েছে। এখন আগ্রহী ক্রিকেটারদের সংখ্যা চূড়ান্ত হলেই সময় বণ্টন হবে।
মূলত ক্রিকেটাররা বিসিবির একজন ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে একাকী কাজ করবেন। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে একজন ক্রিকেটার কাজ করবেন। প্রত্যেকে অন্তত এক ঘণ্টা সময় পাবেন। দিনভর পালাক্রমে এভাবে স্টেডিয়ামে এসে ক্রিকেটাররা ফিটনেস ট্রেনিং করবেন।
পুরো কার্যক্রমের সমন্বয় করছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ। আগ্রহী ক্রিকেটারের তালিকা তৈরি করছে ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ। জানতে চাইলে গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগ্রহী ক্রিকেটারদের তালিকা অনুযায়ী আমরা আমাদের ট্রেনারদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। আমরা একটা ট্রেনিং শিডিউল তৈরি করতে চেষ্টা করছি। আমাদের দেশীয় ট্রেনাররা তত্ত্বাবধান করবে। স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার বিষয় দেখার জন্য মেডিক্যাল বিভাগ থাকবে। গ্রাউন্ডস বিভাগ তাদের করণীয় করে দেবে। এটা মাল্টি ডিপার্টমেন্ট কাজ, এটা একটা ডিপার্টমেন্টের কাজ নয়। আমরা সবাই মিলেই করছি।’
করোনাকালে ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের জন্য আইসিসির নীতিমালা অনুসরণ করবে বিসিবি। সঙ্গে দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজেরাও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘কিছু নীতিমালা আছে, আইসিসি যেগুলো দিয়েছে। সেগুলো আমরা অনুসরণ করব। সঙ্গে আমাদের দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী আমরা কিছু যোগ করব। আমরা সব প্লেয়ারকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে দেব, কীভাবে তারা ট্রেনিং করবে। স্বাস্থ্যগত বিষয়েই কথা হবে।’ ক্রিকেটারদের সংখ্যা বাড়লে বিসিবি একাডেমি মাঠ ও মূল মাঠ ব্যবহার হবে। বিসিবি দুটো মাঠই তৈরি রাখবে। অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিসিবির প্রধান চিকিত্সক বলেন, ‘আলাদাভাবে অনুশীলন করবে প্রত্যেকে। মাঠে আমাদের একজন ট্রেনার থাকবে। প্লেয়ারকে তার ট্রেনিং শিডিউল বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্লেয়ার ট্রেনিং করবে। ধরেন একজনের জন্য এক ঘণ্টা সময় থাকবে। কারো জিম, কারো রানিং থাকবে। ট্রেনার দেখবে প্লেয়ার কাজটা ঠিকমতো করছে কি না। একজনের কাজ শেষ হয়ে যাবে আরেকজন আসবে। একজন চলে গেল, এক ঘণ্টায় সবকিছু স্যানিটাইজ করে পরিষ্কার করা হলো, তারপর আরেকজন এলো।’
মিরপুর ছাড়াও বিভাগীয় স্টেডিয়ামগুলো ব্যবহার করতে পারবেন ক্রিকেটাররা।