আরবের প্রতিযোগিতামূলক উট জবেহ যাকে বলা হতো ‘মোয়াকারাত’। প্রথমে এ বিষয়ে একটি ঘটনা বর্ণনা করছি—আলী (রা) এর খেলাফতকালে কুফায় প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। লোকেরা কুফা ছেড়ে আশেপাশের এলাকায় চলে যায়। বিখ্যাত কবি ফরযদকের পিতা গালিব যিনি সম্প্রদায়ের নেতা ছিলেন। সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে কুফা থেকে এক দিনের দূরত্বে বনু কালিবের এলাকায় চলে গেলেন। তিনি তার ভাতৃসম্প্রদায়ের জন্য একটি উট কোরবানি করেন ও কিছু গোসত হাদিয়া হিসেবে সোহাইমের কাছে পাঠান। ২য় দিন গালিব দুইটি উট কোরবানি করলে সোহাইম ও দুইটি উট কোরবানি করে। ৩য় দিন গালিব ১০টি উট কোরবানি করলে সোহাইম ও ১০টি উট কোরবানি করে। ৪র্থ দিন গালিব ১০০ উট কোরবানি করলে সোহাইম করল না কারণ তার কাছে ঐ পরিমাণ পশু ছিল না। দুর্ভিক্ষ শেষ হলে সকলে এলাকায় ফিরে আসে। সোহাইমের গোত্র বনু রিয়াহ এ সংবাদ শুনে সোহাইমকে বলল তুমি আমাদের বংশকে ছোট ও অপমানিত করেছ। আমাদের কাছে সংবাদ দিলে আমরা প্রত্যেকে তোমাকে দুইটি করে পশু দিতাম। তখন গোত্রের লোকের সহায়তায় সোহাইম ৩০০ উট জবেহ করে। খলিফা আলী (রা) এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি ঘোষণা করেন এ পশুগুলোর গোসত খাওয়া হারাম। কেননা এগুলো আল্লাহর জন্য নয় বরং গর্ব-অহংকার প্রকাশ ও আত্মমর্যাদার জন্য জবেহ করা হয়েছে। তিনি ঐ জবেহ করা সবগুলো পশুকে দুর্গন্ধময় কূপে ফেলার ব্যবস্থা করেন, শিয়াল শকুন ঐ পশু খেল। আজকে আমাদের দেশেও এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক কোরবানি চলে। কে কত দামের পশু কোরবানি করে, কোন শিল্পপতি বা আমলা বা ব্যবসায়ী কত বেশি দামের পশু কোরবানি করেছে তার প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতা চলে। হালাল উপার্জন ছাড়া, এমনকি বেশি হালালের সঙ্গে অল্প হারাম মিশ্রিত উপার্জনে শুধু কোরবানি নয়, কোনো দোয়া ইবাদত কবুল হবে না, এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শরিকে কোরবানি দাতাদের একজনের নিয়ত যদি খাটি না হয় ঐ পশুতে শরিকদার কারো কোরবানি কবুল হবে না এ বিষয়টি খেয়াল করা হয় না। ওয়াজিব কোরবানি ছাড়াও আল্লাহর জন্য না হয়ে পিরের জন্য, দরগাহ-মাজারের জন্য পশু জবেহ করে শিরকে লিপ্ত হতে দেখা যায়। আল্লাহ আমাদেরকে ইবরাহীম আ. এর ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সহীহভাবে কোরবানি করার তৌফিক দিন। আমিন ।
lলেখক :ইসলামি শিক্ষাবিদ ও গবেষক