করোনা দুর্যোগকালে উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে আবার বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের একটি বড় অংশকে নতুন করে সামাহীন কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে। অনেক চরেই খাদ্যসংকটের পাশাপাশি আশ্রয় ও স্বাস্থ্য-স্যানিটশেন সংকটও দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় বন্যা-আক্রান্ত প্রতিটি চরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি সহযোগিতা যাতে প্রতিটি বন্যা-আক্রান্ত মানুষ সঠিকভাবে পায় সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শক্তিশালী নজরদারি বাড়াতে হবে।
গতকাল এসডিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘আলোকিত চর’ প্রকল্পের আওতায় সমুন্নয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং করণীয়’ বিষয়ে ভার্চুয়াল সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স-এর সদস্য সচিব জাহিদ রহমানের সঞ্চালনায় সভায় ওয়াটার এইড বাংলাদেশ, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, সুইস কনট্যাক্ট, ফ্রেন্ডশিপ, ডরপ, জিইউকে, বস্, উন্নয়ন সংঘ, পল্লীশ্রী, মানব মুক্তি সংস্থা, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন প্রভৃতি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, করোনাকাল থেকেই চরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সব পথ সংকুচিত হয়ে আসে। মৌসুমী শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। এর মধ্যে বন্যায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়া এবং কোরবানির জন্য পালিত গরু বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কায় চরবাসী এক নতুন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। চরবাসীকে বাঁচাতে, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের সেবা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।