মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পর এবার ২ হাজারের অধিক ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সংসদ সদস্যরা থাকতে পারছেন না। উচ্চ আদালতের এক রায়ে সংসদ সদস্যদের ওই পদে থাকা নিয়ে নানা পর্যবেক্ষণ এসেছে।
হাইকোর্ট বলেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একজন সংসদ সদস্যকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। অপরদিকে গভর্নিং বডির সভাপতি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদমর্যাদা সংসদ সদস্যের নিচের পদমর্যাদার। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি গভর্নিং বডির সভাপতি হন তাহলে কার্যত ঐ গভর্নিং বডি একটি একক ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে বাধ্য। কারণ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর কথা বলার সাহস গভর্নিং বডির কোনো সদস্যের থাকে না—এটাই বাস্তব সত্য।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছে, একজন সংসদ সদস্যকে দেশের সব মানুষের কল্যাণের জন্য যেমনিভাবে ভালো ভালো আইন প্রণয়ন করতে হয়, তেমনিভাবে তার এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্যও সার্বক্ষণিকভাবে নিজেকে নিয়োজিত রেখে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংসদ সদস্য থেকে স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়। সংসদ সদস্যরা হবেন জ্ঞানী, সাহসী, সত্, নির্লোভ এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন। তিনি কখনই তার পদমর্যাদার নিচের কোনো পদে নিজেকে অধিষ্ঠিত করবেন না। সেজন্য গভর্নিং বডির সভাপতির পদ সংসদ সদস্যদের মহান পদের সঙ্গে একেবারেই বিপরীত।
২০১৬ সালের ১৬ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আতরজান মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে নিযুক্ত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ওই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আফজালুল হক। ওই রিটের রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত নভেম্বর মাসে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০০৯ এর ৫(২) ও ৫০ ধারা অবৈধ ঘোষণা করে ২০১৬ সালের জুন মাসে এক রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের ফলে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সংসদ সদস্যরা থাকতে পারেননি। পরে এ রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সারা দেশে ২ হাজারের ওপরে ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ কলেজে সংসদ সদস্যরা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে রয়েছেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইনজীবীর মতামত নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।