ঢাবির অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতি অর্ধেকেরও কম

চলতি মাসের প্রথম থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাখতে এ উপায় বেছে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু শুরু থেকেই বিভাগের অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে অনলাইন ক্লাসে। গ্রামে দুর্বল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, ডিভাইস সংকট, পারিবারিক সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মানসিক প্রস্তুতির অভাব ইত্যাদি কারণে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করছে না। এমনকি অনেক শিক্ষার্থী ঢাকায় অবস্থান করলেও তারাও অনলাইন ক্লাসে যোগ দিচ্ছেন না। তবে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোতে এ উপস্থিতির হার বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত বিশটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন না উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে একটি সম্ভাব্য জরিপ পরিচালনা করছি। জরিপের ফলাফল হাতে আসলে তবেই এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাব। পরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অনুষদগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কলা অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোতে ৪০-৪৫ শতাংশ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোতে ৩০-৪০ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিভাগগুলোতে ৪০-৪৫ শতাংশ। তবে এর বিপরীত বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোতে ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে যোগ দেয়। একই পরিস্থিতি আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সাইন্স অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, ফার্মেসি অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে। প্রথমদিকে এ হার কম থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ভ্যাকেন্ট করে দেওয়ায় তারা গ্রামে অবস্থান করছেন। এখানে পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। অধিকাংশ সময়  নেট সংযোগ পাওয়ার জন্য গাছের ওপরে উঠতে হয়, এমনকি বাড়ি থেকে বেশ দূরে গিয়ে সংযোগ পেতে হয়। তারা জানান, গ্রামে অবস্থান করার কারণে তারা অনেকেই গ্রামের পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছেন। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে সময় দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব।

বিজ্ঞান অনুষদের কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষকরা অনলাইনে যেসব ক্লাস নিবেন পরবর্তীতে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এসব ক্লাস সংক্ষিপ্তাকারে নিয়ে শেষ করবেন। আর শিক্ষকের পাঠদান ছাড়া এসব কোর্স বোঝা একেবারেই অসম্ভব। ফলে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতির হার অনেকটাই বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, অনলাইন ক্লাস একটি আপতকালীন ব্যবস্থা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাব এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যেমন কিছু সংকট রয়েছে, আমাদেরও কিছু সংকট রয়েছে। এসব বাস্তবতা মেনেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।