পঞ্চগড়ে মডেল গণধর্ষণের শিকার

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে পঞ্চগড়ের বোদায় মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মডেল। ধর্ষকদের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে বোদা থানায় এসে তিন জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন ঐ মডেল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন বোদা উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক আবিদা সুলতানা লাকী ও প্রথম বাংলা টিভি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চিফ নিউজ এটিডর ও গ্রাফিক ডিজাইনার সাজ্জাদ হোসেন মিলন। পুলিশ আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে  জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার পাথরঘাটা গ্রামের মেয়ে ঐ মডেল গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় বসবাস করেন। বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার সুবাদে পাঁচ বছর আগে পরিচয় হয় পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার ঝিনুকনগর এলাকার  রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন মিলনের সঙ্গে। মিলন ঢাকায় প্রথম বাংলা টিভির চিফ নিউজ এটিডর ও গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে সাজ্জাদ নিজ এলাকা বোদায় একটি মিউজিক ভিডিও তৈরির জন্য মডেল হিসেবে কাজ করতে ঐ তরুণীকে আসতে বলে। সাজ্জাদের কথামতো গত ১৪ জুলাই সকালে বোদায় পৌঁছায় ঐ মডেল। সাজ্জাদ উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক আবিদা সুলতানা লাকীর থানাপাড়ার বাড়িতে নিয়ে চার-পাঁচ জন মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যায় পৌরসভার ভাসাইনগরের এক বাড়িতে। সেখানেও তাকে গণধর্ষণ করে। গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় সিনথিয়া সেখান থেকে পালিয়ে বোদা থানায় আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বোদা থানায় আসেন এবং রাতেই ঐ মডেল তিন জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ রাতেই আসামি সাজ্জাদ হোসেন মিলন ও আবিদা সুলতানা লাকীকে গ্রেফতার করে। অপর আসামি জসীমউদ্দিন পলাতক রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু সায়েম মিয়া জানান, প্রধান দুই আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষণের শিকার ঐ তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি সম্পন্ন হয়েছে।