লেখকের বিয়ে

 [হিরুকে নিয়ে ইত্তেফাকের ফান ট্যাবলয়েড ‘ঠাট্টা’য় যিনি নিয়মিত লিখেন, তিনি আর আমি এক ব্যক্তি নই। পাঠকমহলে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে—তাহলে কে আমি? আসলে, আমি নিতান্তই অপরিচিত একজন। আর হিরুর মুখে যে অভিজ্ঞতা শুনলাম, তাতে আমার আক্কেলগুড়ুম। অন্তত, লোকসমাজে আমার ‘লেখক’ পরিচয় সৃষ্টি হোক, এমনটা চাই না। অন্তত বিয়ের আগে তো না-ই। ভণিতা না করে তাহলে গল্পটা শুরুই করা যাক। বলে রাখি, এখানে কোনো কিছুই আমার যোগ করা না। পুরোটাই হিরুর মুখ থেকে শোনা। আপনারাও তার বয়ানেই শুনুন... ]

 

এ দেশে শীতকাল এলেই ব্যাচেলরদের দুঃখ বাড়ে, বুঝলে। আর ইদানীং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের যুগে, ব্যাচেলরদের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তোলে সদ্য বিবাহিত যুগলরা! তাদের আংটিবদল থেকে শুরু করে গায়ে হলুদ, বাসর রাতের প্রারম্ভিক পর্যায় এবং পরবর্তীকালের হানিমুন ট্রিপে তোলা ছবি তারা একের পর এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আপলোড করে দেশের আপামর ব্যাচেলর ছেলেপুলেদের হতাশা দিনকে দিন বাড়িয়েই চলে। আমার ব্যাপারটা অবশ্য আলাদা। বিয়ে তো সেই কবেই করলাম, কিন্তু হানিমুনে আর যাওয়া হলো না! আসলে যাওয়ার মতো সময়ই হয়ে ওঠেনি। তোমাদের ওই লেখক মহাশয় যা ব্যস্ততার মাঝে রেখেছেন না আমাকে! তিনি বলেন, প্রত্যেক সপ্তাহে আমাকে নিয়ে ঠাট্টায় তার কিছু না কিছু লেখা চাই-ই চাই। এটা নাকি লাখো পাঠকের প্রাণের দাবি। আমি তখনই বুঝেছিলাম, বেচারা গুল মারছেন! কিন্তু তার কথাটি একেবারে অবিশ্বাসও করতে পারিনি! তার জন্যই তো আমাকে কত কত ঘটনার জন্ম দিতে হয়! অবশ্য তুমি আমার আপনজন বলে বলছি—আমি আসলে তার জন্য কিছুই করি না। যা ঘটে, তা আপনাআপনিই ঘটে চলেছে আমার জীবনে, এই হিরুর জীবনে।

তো, বেশি বকবকর না করে মূল কথায় ফিরে আসি। একদিন লেখক মহাশয় জানালেন, ‘হিরু ভাই, আপনাকে নিয়ে লিখতে লিখতে আমার জীবনটাই তো তেজপাতা হয়ে গেল...’

‘কেন, কী হয়েছে?’ আমি জানতে চাইলাম।

তখন তিনি বললেন, ‘আপনাকে নিয়ে রম্য লিখি বলে পাবলিক ভাবে আমি এক জোকার। মানুষকে হাসানোই নাকি আমার মূল কাজ।’

‘সে ভাবলে ভাবুক না। কী এসে যায় তাতে?’

‘এসে যায় ভাই। আপনি তো কম বুড়ো হলেন না। বিয়েশাদিও করেছেন! একেবারে ঝামেলাহীন জীবন আপনার! কিন্তু আমার কি আর সেই কপাল আছে! রুমে কত বড় একখান খাট পেতে রেখেছি। কিন্তু এখন শীতের দিন, কম্বল কিছুতেই গরম হতে চায় না...।’

‘এক কাজ করবেন—খাটের যে পাশটা খালি পড়ে আছে, সেখানে রাতে ঘুমানোর সময় কাঠ-কয়লা কিছু একটা মৃদু জ্বালিয়ে রাখবেন। বেশ উম পাবেন।’

আমার কথা শুনে বেচারা কটমট করে আমার দিকে তাকালেন। আমি বারকয়েক ঢোঁক গিলে ফের বললাম, ‘তাহলে আরেকটা কাজ করতে পারেন। সারাদিন তো লিখতে লিখতে ল্যাপটপ খানাই গরম বানিয়ে ফেলেন। ল্যাপটপটা কম্বলের নিচে রেখে দেবেন। দ্রুতই গরম হয়ে যাবে!’

এবার লেখক মহাশয় ক্ষেপলেন না। বুঝলাম—ঠাট্টায় আমাকে নিয়ে লিখতে লিখতে তার জীবনটাই বোধহয় ঠাট্টা হয়ে গিয়েছে। এখন তার জীবন মানেই জি বাংলা থুড়ি তেজপাতা!

কতক্ষণ পরে তিনি বললেন, ‘এ মাসে লেখার চাপ একটু কম আছে। তাই একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। এই শীতটা আর নিরস কাটাতে চাই না। খুব শীঘ্রই বিয়ে করে ফেলব।’

তার কথা শুনে আমি ‘ইয়াহু’ বলে এমনভাবে চিল্লিয়ে উঠলাম, বেচারা মূর্ছা খেলেন। পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরানোর পর আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই কাল রাতে শুটকি দিয় ভাত খেয়েছিলেন?’

আমি তোঁতলাতে তোঁতলাতে বললাম, ‘জি, ঠিকই ধরেছেন। কিন্তু আপনি কীভাবে বুঝলেন?’

‘শুটকির গন্ধ আমি না একদমই সহ্য করতে পারি না। সে যাকগে, আসল কথায় আসি। বাবা-মা মেয়ের ছবি পাঠিয়েছেন। আমার পছন্দ হয়েছে। এবার আপনিও দেখুন না একটিবার।’

তিনি মানিব্যাগ থেকে একটা মেয়ের ছবি বের করে আমাকে দেখালেন। অপূর্ব। পরী বলেই মনে হলো। অস্বীকার করব না—আমার মনে একটু আফসোসই জন্মাল। আহা! লেখক জীবন! কী সুন্দর বউই না কপালে জোটে! অবশ্য আমার বউও কম সুন্দর নয়!

‘কেমন লাগল?’ তিনি জানতে চাইলেন।

‘অপূর্ব।’ হিংসায় এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না।

তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে বাড়িতে দিন-তারিখ ঠিক করতে বলি। আপনি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। আমার সাথে আপনাকেও যেতে হবে। আর হ্যাঁ, প্লিজ, সেখানে গিয়ে আবার মজার কিছু করবেন না যাতে বিয়েটা ভেঙে যায়!’

খোঁচা খেয়ে কিছুটা খারাপ লাগলেও, হতাশ হলাম না। লেখকের বিয়ে খাব। এমন সৌভাগ্যই বা কয় জনের হয়, বলুন।

 

দুই.

কাজী যখন বিয়েটা পড়ালেন তখন কনে উপস্থিত ছিলেন না। ভদ্রস্থ ঘরের মেয়ে। তারা নাকি পরপুরুষের সামনে মুখ দেখান না। তবে, তার ‘কবুল’ বলাটা আমরা মোবাইলে অডিও কলের মাধ্যমে শুনে নিয়েছি। রেকর্ডও করে রেখেছি। ওখানে পুরোটা সময় আমি বিয়ের নানা বিষয়-আশয় নিয়ে ব্যস্তই ছিলাম। ঠাট্টা-মশকরার তেমন একটা সময় পাইনি। তারপরও (বিয়ের পরে) একঢালা অভিযোগ পেলাম, অবশ্যই লেখক মহাশয়ের কাছ থেকে। আমি নাকি এখানে এসেও হ্যাংলামো শুরু করে দিয়েছি!

কয়েকটা ঘটনা তাহলে আপনাদেরকে খুলেই বলি—

আমরা ওই বাড়িতে গেলে পরে তারা গেট ধরে। দশ হাজারের নিচে নাকি গেট পাসই মিলবে না!

আমি তখন হুট করে বলে উঠলাম, ‘বিয়ের গেট বানায় কলাগাছ দিয়ে। এখানে কলাগাছের অস্তিত্ব নাই। তাই আমরা গেটে কোনো টাকাই দেব না।’

মুহূর্তেই রেটটা পাঁচে নেমে এল, মানে পাঁচ হাজারে। কিন্তু আমরা এতেও রাজি নই। আমি বললাম, ‘গেট মানেই কলাগাছ। আপনারা আমাদের কলাগাছ না দেখিয়েই বাঁশ দেবেন, আর আমরা সেই আইক্কাওয়ালা বাঁশ খাব! খেয়ে পেট ভরব! উঁহু, তা হবে না। কেননা, একটু পরে বিয়ের খানাপিনা করতে হবে। দশ টাকার একখানা কড়কড়ে নোট দিচ্ছি। গেট বাঁধতে দশ টাকার ফিতাও লাগার কথা নয়। গেট খুলে দিন।’

মুহূর্তেই চারিদিকে হইহই রব পড়ে গেল। কয়েকজন পাহারায় থেকে অন্যরা কলাগাছ আনতে ছুটল। নয় হাজার নয়শত নব্বই টাকা গচ্চা দিতে রাজি নয় তারা।

কলাগাছ এনে গেটে পোতার পর তারা বললেন, ‘এবার পাক্কা দশই ছাড়তে হবে।’

আমি দশ টাকার নোটটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, ‘এবার ফিতাটা কাটি?’

তারা তো সেটা ছুঁয়েই দেখলেন না। উল্টো চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘উঁহু, দশ হাজারই লাগবে। এক টাকা কম হলেও কাঁচি পাবেন না।’

আমি তখন সবাইকে চমকে দিয়ে পকেট থেকে একটা কাঁচি বের করে বললাম, ‘একটা কাঁচির দাম দশ হাজার! কাঁচি আমরা সাথে করেই নিয়ে এসেছি।’

তবুও তারা ফিতা কাটতে দেবেন না। আমরাও গো ধরে দাঁড়িয়ে রইলাাম। তারা বললেন, ‘বেশি লেট করলে নাকি আমাদেরই ক্ষতি। ক্ষুধা মরে যাবে। খাওয়াদাওয়া করে জুঁত হবে না!

আমি তখন বরপক্ষের সবাইকে সাথের ব্যাগ থেকে একটা করে লাড্ডু বের করে দিলাম। লাড্ডু খেলে আপাতত ক্ষুধা মরে যাবে। আমরা দুপুরের বদলে রাতেই খাব। তাও যদি তারা ফিতা কাটতে না দেয়, তাহলে আমরা বিয়েই করব না। চলে যাব!’

আমার শেষের কথাটা শুনে লেখক মহাশয়ের হার্ট ফেলের দশ হলো। কনেপক্ষ আর বেশি মুলামুলি করল না। দশ টাকার একখানার বদলে দশখানা নোটেই পথ ছেড়ে দিল।

খাওয়াদাওয়ার পর হাত ধোয়ানো নিয়ে হলো আরেক পর্ব। পাঁচ হাজারের নিচে আমাদের মানে জামাইয়ের হাতই ধোয়াবে না তারা। আমরা পকেটে করে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিস্যু পেপার নিয়ে গিয়েছিলাম। সে আরেক কাহিনি, এখানে আসার পথে একটা হোটেলে উঠেছিলাম, চা খেতে। ওখান থেকেই টিস্যুর সাপ্লাইটা পেয়েছি। বিনামূল্যে। সেই টিস্যু দিয়ে হাত মুছে আমরা যেন কাউকে চিনিই না!

এরপর আরও অনেক কাণ্ডই হলো। কিন্তু এক কাণ্ডের কারণে বাদবাকি সবকিছুই আড়াল হয়ে গেল। কনে নিয়ে আমরা যখন চলে আসব, তখন দেখি—কনে পাল্টে গেছে!

বুঝলাম, আমরা যে এতক্ষণ ধরে মজা নিয়েছি, তার শোধ নেওয়া হচ্ছে। লেখক মহাশয় লাজলজ্জা ভেঙে নিজেই গাইগুঁই করতে লাগলেন—আপনার এমন বিষয় নিয়ে মজা করছেন! তাড়াতাড়ি পাত্রীকে নিয়ে আসুন। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। ফিরতে লেট হবে!

কিন্তু তাদের এক কথা, বিয়ে নাকি এই মেয়ের সাথেই হয়েছে। রেজিস্ট্রির খাতায় এর নামই লেখা হয়েছে। কবুলটাও ইনিই বলেছেন!

বিয়ের সময় কনের নাম দেখে আমার অবশ্য তখনই খটকা লাগে। বরকে বলিও সে কথা, ‘ভাই, পাত্রীর নাম কি ভুল বলল নাকি?’

তখন তিনি হেসে বললেন, ‘এটা সার্টিফিকেটের নাম। কনের ডাকনামটা তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম। ওটা ঠিকই আছে।’

নতুন যেই পাত্রীকে লেখক মহাশয়ের সাথে গছানোর আপ্রান্ত চেষ্টা চলল, তিনি দেখতে আগের জনের থেকেও বেশি সুন্দর। কিন্তু পাত্র কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না। তার কথা হলো—আগে যার ছবি দেওয়া হয়েছিল, তিনি নাকি তাকে দেখেই প্রেমে পড়েছেন। একজনের সাথে ‘প্রেম করে’ এখন তিনি আরেকজনকে বিয়ে করতে পারবেন না! কিছুতেই না।

ঠিক তখন পাত্রী তথা আমাদের ভাবি মুখ খুললেন, ‘ওই সময়ে আমার কোনো ছবি তোলা ছিল না। তাই বড় বোনেরটা পাঠিয়ে দিয়েছি।’

‘তাহলে তাকেই বিয়ে করব। বড়কে রেখে ছোটকে কেন!’

‘না, তা হবে না। আপনাকে পেতে আমি সিরিয়াল ব্রেক করেছি। আমি কিছুতেই আপনাকে হারাতে চাই না।’

‘মানে?’

‘মানে খুবই সহজ। আমি আপনার একজন ভক্ত। আপনার লেখা পড়ে আপনার প্রেমে পড়ে গেছি। তাই বুদ্ধি করে আপনাকেই বিয়ে করলাম।’

এতক্ষণ আমার মাথার ভিতরে একটা কথা কিলবিল করছিল, শেষমেশ বলেই ফেললাম, ‘মোবাইলের যুগে একখানা ছবি তুললেই পারতেন। বোনের ছবি পাঠাতে গেলেন কেন!’

‘লেখক মহাশয় তার লেখায় কত কত ঠাট্টা-তামাশা করেন। আর আমি তার হবু বউ, আই মিন এখন তো পার্মান্যান্ট বউই হয়ে গেছি। আমি মজা নিলে দোষ?’

‘না। এ অন্যায়। আমি কিছুতেই এ বিয়ে মেনে নেব না। আমার মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।’

‘আপনি পাঠকের মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেন না?’

‘তবুও।’ পাত্র গো ধরে বসে পড়লেন। প্রয়োজনে আমরণ অনশন করবেন তিনি। তবুও এ বিয়ে কিছুতেই মেনে নেবেন না।

আমার মাথায় তখন এক আইডিয়া এল। লেখক মহাশয় আই মিন পাত্রকে বললাম, ‘ভাই, ইনিই আপনার জন্য সহি। ভাবির বড় বোন কিন্তু ব্যাপক শুঁটকি পছন্দ করেন। কিন্তু ভাবি শুঁটকি ছুঁয়েও দেখেন না।’

‘সত্যি বলছেন!’

‘হ্যাঁ।’

‘তাহলে এইজনই ঠিক আছে!’

 

তিন.

লেখকের বিয়ের পরের কয়েকটা দিন ব্যাচেলরদের জন্য বেশ উত্পাতেরই ছিল। যদিও আমি তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলাম, ‘ভাই, জানি, এখন যে ট্রেন্ড চলছে, ফেসবুকে আপনারা ছবি না দিয়ে পারবেন না। তবে আপনি ভাবির সামনাসামনি তোলা কোনো ছবি দেবেন না। এমন ছবি দেবেন যাতে তার ফেস দেখা না যায়। কেন—জানতে চাইছেন তো? আরে, ভাবি বিয়ের আগে আপনার সাথে ছবি নিয়ে যে মজাটা করলেন, আপনি তার শোধ তুলবেন না!’

কিন্তু কিসের কী! তার বউয়ের এত এত ছবি দেখে বিয়ের এত বছর পরে আমার বউও আবদার তুলল, তাকে হানিমুন ট্রিপে নিয়ে যেতে হবে!

এই প্যারার মধ্যেই একদিন লেখকের ফোন পেলাম। বললেন, ‘আমার বোধহয় আর ‘হিরু দ্য গুরু’ লেখা হবে না।’

‘কেন ভাই?’

‘লিখতে হলে ‘হিরু :দ্য গরু লিখব’। তবে, সেটাও সম্ভব হবে না বোধহয়...’

লজ্জার মাথা খেয়ে আবারও জানতে চাইলাম, ‘কেন ভাই, এ কথা বলছেন কেন?’

‘বিয়ের পর যেই দৌড়ানিতে আছি! লেখার সময় কখন? আর আপনি ভাই আমাকে যেই বাঁশখানা দিলেন...। আমি যে শুঁটকি অপছন্দ করি, এ কথা আপনার ভাবিকে জানানোর কী দরকার ছিল! সে এখন শুঁটকি দিয়েই আমাকে শুঁটকি করছে আই মিন জব্দ করছে!’

‘কিন্তু ভাইজান, এই শুঁটকিই তো আপনাদের বিয়ের ফুল ফোটাল।’

তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ‘আর আমাকে বানাল ফুল (বোকা)!’ শেষে তড়িঘড়ি করে বললেন, ‘এখন রাখছি ভাই। আপনার ভাবি ডাকছে। হাতে বিশাল একখানা ফর্দ। বোধহয় বাজারে পাঠাবে...।’   g