বাংলা বানানের নিয়মকানুন

গত বুধবারের পর

সুপ্রিয় বন্ধুরা, করোনা মহামারিতে তোমরা সকলে ঘরে বসে পড়াশোনা করছ। তাই এ সময়টুকু  ভালোভাবে কাটাতে  আমাদের বাংলা বানানের নিয়মকানুনগুলো দেখে নিতে পারো।

১. কারোর বক্তব্য হুবহু উপস্থাপনের জন্য উদ্ধৃতি চিহ্ন বসে।

যেমন : তিনি বললেন, “আমি বাড়ি যাব।”

২. এক জনের বক্তব্যের ভেতরে যদি ভিন্ন জনের বক্তব্য উদ্ধৃত হয়, তাহলে প্রধান ক্ষেত্রে জোড়-উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং তার অন্তর্গত উদ্ধৃতিতে এক-উদ্ধৃতিচিহ্ন বসে।

যেমন : বাবা বললেন, “মিথ্যা বলার দরকার নেই; তুমি বলো, ‘আমি জানি না’।”

৩. সাধারণত উদ্ধৃত শব্দের দুই দিকে এক-উদ্ধৃতি এবং বাক্যাংশ বা বাক্যের দুই দিকে দ্বৈত-উদ্ধৃতি চিহ্ন বসে। [তবে, এটি শিথিলযোগ্য]

যেমন : ‘সন্ধি’ শব্দের অর্থ হলো মিলন। হৈম ব্যথিত হইয়া প্রশ্ন করিল, “কেহ যদি বয়স জিজ্ঞাসা করে কী বলিব ?”

৪. বাক্যে ব্যবহূত কোনো পত্রিকা বা গ্রন্থের নামে উদ্ধৃতিচিহ্ন বসে।

যেমন : বাংলা বানান ঠিক করতে হলে বর্তমানে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসরণ করতে হবে।

৫. বাক্যে ব্যবহূত কোনো ব্যক্তি কিংবা বিষয় বা বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব-সহকারে উপস্থাপন করতে উদ্ধৃতিচিহ্ন বসে।

যেমন : ছোটো গল্পটি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৬. উদ্ধৃত একাধিক অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে প্রতিটি অনুচ্ছেদের কেবল শুরুর উদ্ধৃতিচিহ্ন (“) বসে এবং সবকয়টি অনুচ্ছেদ শেষে কেবল একটি শেষের উদ্ধৃতিচিহ্ন (”) বসে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন :

শেষের উদ্ধৃতিচিহ্ন কি বাক্যের শেষে দাঁড়ি বা জিজ্ঞাসাসূচক বা বিস্ময়সূচক চিহ্নের আগে বসে নাকি পরে বসে ?

উত্তর : এটি নির্ভর করে বাক্যের গতিপ্রকৃতির ওপর। যদি দাঁড়ি বা জিজ্ঞাসাসূচক বা বিস্ময়সূচক চিহ্নকে উদ্ধৃত করা হয়, তাহলে সেগুলোর পরে বসে। আর যদি বাক্যের ভেতরের বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করতে ব্যবহূত হয়, তাহলে সেগুলোর আগে বসে। যেমন : তিনি বললেন, “তোমার নাম কী ?”

রবীন্দ্রনাথের লেখাগুলোর মধ্যে আমার যেটা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে সেটা হলো ‘শেষের কবিতা’।