উন্নত জাতের হাঁস পালনে আগ্রহ বাড়ছে

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

বাংলাদেশে পোলট্রি শিল্পের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে মুরগির পাশাপাশি অনেকেই হাঁসের খামার গড়ে তুলছেন। আমাদের দেশে হাঁসের মাংসের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। হাঁসের মাংস এবং হাঁসের ডিমের চাহিদার কারণে অনেকেই হাঁসের খামার গড়ে তুলতে এগিয়ে আসছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে হাঁসের খামার বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে অধিক লাভজনক চায়না প্রজাতির হাঁসের খামার বেশি হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় চায়না প্রজাতির হাঁস লালন-পালন করে সফলতা অর্জন করা যায়। যার নাম বেইজিং জাতের হাঁস। অনেকের ধারণা এই বিদেশি জাতের হাঁস আমাদের দেশে লালন-পালন করা যাবে কি না অথবা আমাদের দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে কি না। কৃষকরা প্রমাণ করেছেন আমাদের দেশে এই বেইজিং জাতের হাঁস পালন করা খুবই সহজ। দেশীয় হাঁসের মতো দেশীয় খাবার খাওয়ানো যায় বলে আমাদের দেশে এই হাঁস ভালোভাবে লালন-পালন করা যায়। এই বেইজিং জাতের হাঁস তিনভাবে পালন করা যায়—১) আবদ্ধ পদ্ধতি, ২) আবদ্ধ ও আংশিক খোলা পদ্ধতি, ৩) উন্মুক্ত পদ্ধতি। আমাদের দেশি হাঁস যেভাবে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পালন করা হয়, এই হাঁসও সেই একই পদ্ধতিতে লালন-পালন করলে লাভজনক হবে। কারণ হাঁস সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় পালন করলে সেখান থেকে লাভ করা সম্ভব নয়। এই হাঁসের বাচ্চা কেনার পরে প্রথম এক মাস ব্রয়লার ফিড বা লেয়ার মুরগির ফিড খাওয়াতে হবে। এক মাস পর হলেই ২৫ দিন বয়সে একটি ভ্যাকসিন দিতে হবে। তারপর উন্মুক্ত পদ্ধতিতে মাঠে, বিলে, নদীতে বিশেষ করে যেখানে প্রাকৃতিক খাদ্য আছে যেমন শামুক, ঝিনুক, আগাছা, লতাপাতা, কচুরিপানা, শ্যাওলা, মাঠে পড়ে থাকা ধান এসব জায়গায় পালন করতে হবে। এই প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ালে তিন মাস বয়সে এই হাঁস প্রতিটি চার কেজি ওজনে বিক্রি করা যায়। এতে প্রতিটি হাঁসে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ করা যায়। এই জাতের হাঁসগুলো দেশি জাতের হাঁসের চেয়ে এক থেকে দেড় মাস আগে থেকে ডিম দিতে শুরু করে এবং সারা বছর জুড়েই ডিম দিতে পারে তবে বেইজিং জাতের হাঁসের মাংস উত্পাদনের জন্য সবচেয়ে ভালো। মাত্র তিন-চার মাসেই এই হাঁসের ওজন হয় ৩.৫ থেকে চার কেজি পর্যন্ত হয়।