সিলেট সুনামগঞ্জে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি

সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীর পানি কিছুটা কমলেও বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। শুক্রবার সকালে রোদের পর বিকেলের বৃষ্টি বন্যা কবালিত ১৭ উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষকে আবারও দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ শহরে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে নেমে এলেও অনেকের ঘর থেকে বন্যার পানি এখনও নামেনি। ২৫ জুন থেকে প্রথম দফা এবং ১০ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফা বন্যায় দুর্ভোগে সিলেট ও সুনামগঞ্জের মানুষ। অপ্রতুল ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানীয় জলসহ মানুষ ও গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কটে বানভাসি মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

সিলট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মজুমদার মোহাম্মদ ইলিয়াস ইত্তেফাককে জানান, প্রথত দফা বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে আউস ধান ও বীজ তলার যে ক্ষতি হয়েছে তাতে কৃষক ২৬৪ কোটি টাকার ফসল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হলো। দ্বিতীয় দফা বন্যায় তিন হাজার ১৮৫ হেক্টর আউস ও ১৬২ হেক্টর আমানের বীজ তলা ডুবে গেছে।   

এদিকে বন্যার কারণে সিলেটের গোয়াইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট সদরের সড়ক যোগাযোগ বিভিন্ন স্থানে ব্যাহত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও জামালগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সফিক উদ্দিন জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার সিলেটের আট উপজেলায় ১৪০ মেট্রিক টন চাল, দুই লাখ টাকার শিশু খাবার ও দুই লাখ টাকার গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। 

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার এক লাখ দুই হাজার ৭২৯টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  ১১টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় ২৬৯টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও জেলায় ৮৫৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৪৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা, এক হাজার ৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, দুই লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও দুই লাখ টাকার গো-খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। তবে আরও এক হাজার বান্ডেল ঢেউটিন, পাঁচ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ ২০ লাখ টাকা, পাঁচশ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকার গো খাদ্য চাহিদা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি