গরুর হাট জমে না ওঠায় শঙ্কায় খামারিরা

ব্যাপারীদের দেখা নেই

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু উঠছে। করোনা পরিস্থিতি, গরুর ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ, বন্যাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও হাটবাজারগুলোতে কোরবানির প্রচুর গরু উঠছে। সাধারণত ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গরু ব্যাপারীরা এসে এসব হাট থেকে গরু কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবারে বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এখনো আসেনি। ফলে হাটবাজারগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে। অন্য বছর হাটবাজারগুলোতে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ক্রেতারা গরু কিনতেন। এবার সরকারিভাবে ঈদের আগে ও ঈদের পরে নয় দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার ঘোষণা দেওয়ায় বাইরের গরু ব্যবসায়ীদের এখনো হাটবাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে না। ঈদের হাটে গরু বিক্রির আশায় বসে থাকা খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৭ হাজার ৯৮০ জন খামারির তালিকাভুক্ত পশুর সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৭৪টি গরু, ১৬ হাজার ৩৪টি ছাগল-ভেড়া তালিকাভুক্ত। এছাড়াও জেলায় কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সৌখিন পরিবারের আরো প্রায় ২০ হাজার পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার সরেজমিন বোদা উপজেলার নগরকুমারী হাটে গিয়ে দেখা গেছে, গরু আমদানির তুলনায় ক্রেতা কম। গত বছর যে গরু ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এবার  সেরকম গরু ২০-২৫ হাজার টাকা বলছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ মানুষেরই মাস্ক দেখা যায়নি। নেই জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থাও।

জেলার বোদা উপজেলার কুড়ালিপাড়া এলাকার খামারি হকিকুল ইসলাম ও আব্দুল করিম জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে খড় ঘাস খৈল ভুসি ভাতের মাড় খাইয়ে গরুগুলোকে বিক্রি উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু হাটবাজারে গরুর ব্যবসায়ীরা না আসায় গরুর দাম কমেছে। জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের সাতথামার গ্রামের গরুর খামারি নুর আলম পুলক জানান, ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজের কারণে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। বোদা নগরকুমারী হাটের ইজারাদার আব্দুর রহমান জানান, আমদানি মোটামুটি হলেও গরুর হাটে ক্রেতা কম। বাইরের গরু ব্যবসায়ীরা আসেনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মজিদ জানান, আসন্ন কোরবানির জন্য জেলায় ৪৬ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। এখানে চাহিদার কোনো ঘাটতি হবে না। করোনার কারণে এবার কোরবানির পশু বিক্রির বিষয়টি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করবে।