g ব্রত রায়
দ্বিতীয়বার
ঈদের ছুটিতে আবুল গিয়েছে
নেত্রকোনার গ্রামে
ছুটি শেষে তার দুই চোখে যেন
অকূল আঁধার নামে!
বসের ফোনে সে ফোন করে বলে,
‘ভীষণ বিপদে আছি
দুইদিন ধরে শাশুড়ি আমার
মৃত্যুর কাছাকাছি!’
বস রেগে কন, ‘শাশুড়ি তোমার
গেল বছরের ঈদে,
মারা গেছে বলে ছুটি নিয়েছিলে!
হচ্ছ না কেন সিধে?
আর কতো তুমি মিথ্যে বলবে?
শাশুড়ি কি বলো কারও
দুইবার মরে? কাজে যোগ দাও!
এসব ধান্দা ছাড়ো!’
আবুল বলল, ‘কোনো মানুষেই
দু বার মরে না জানি
কিন্তু দু বার বিয়ে কি করে না
মানুষ নামের প্রাণী?’
বাংলাদেশে থাকি
সেদিন গেলাম এক বিয়েতে।
বরের ছোট খালা
বসেন এসে আমার পাশে।
বলুন তো কী জ্বালা!
বকবকিয়ে ধরান মাথা
ফুটছে মুখে খই
ভদ্রতাতে ‘হুঁ হাঁ’ দিয়ে
যাচ্ছি অবশ্যই!
‘বরের কী নাম, আর কী করে’—
প্রশ্ন করি তাকে
বলেন খালা, ‘বোনপো আমার
আমেরিকায় থাকে!’
পালটা এবার প্রশ্ন আসে,
‘বাপ কী করো তুমি?’
প্রশ্ন শুনে সরেই গেল
পায়ের নিচের ভূমি!
হায় রে কপাল! বেকার আমি।
এটাই ছিল বাকি?
দমব কেন? বলছি, ‘আমি
বাংলাদেশে থাকি!’
খাম
বউয়ের কাছে ‘ভ্যাদাইম্যা’, ‘বদ’,
পাচ্ছি কত নাম রে
দুঃখে রাগে দিচ্ছি এখন
নিজের হাতেই কামড়ে!
ক্যান বিবাহ করেছিলাম?
আর দুনিয়ায় কাম নাই?
সংসারে আজ পুরুষ লোকের
দু’পয়সারও দাম নাই!
এসব দেখেও ক্যান পোলাপান
কও তো বিয়ের নাম নেয়?
খারাপ খারাপ উদাহরণ
যখন চোখের সামনে?
কথায় কথায় দেয় খোঁটা আর
সঙ্গে ফ্রি মুখ-ঝামটা
বন্ধ সেটা মাসের শেষে
দিচ্ছি যখন খামটা!