মানুষকেই মানিয়ে নিতে হবে

এস এম ফরিদুল আলম

 

সম্প্রতি চট্টগ্রামে কিছু বিত্তশালী ও দানশীল ব্যক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের সম্মিলিত উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতালে ফ্লোনাজাল, ক্যানোলা, নন রিবিদেবল মাস্ক, এন-৯৫ মাস্ক, পিপিই সামগ্রী, অক্সিজেনসহ জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী সর্বোপরি  ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের সাহায্য এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে খুব স্বল্পসময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে অনেকে মনে করছেন। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ কোভিড-১৯ সংক্রমণ শুরুর প্রথম দিন থেকেই বেসরকারি হাসপাতালের  রোগীদের এমনকি করোনা আক্রান্ত রোগী ছাড়া অন্য রোগীদের সঙ্গে নিষ্ঠুর মনোভাবের কারণে অনেক রোগী অকালে মৃত্যুবরণ করেছে। অতীতে রোগীদের চিকিত্সাসংক্রান্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হলেও এই দুর্যোগে অর্থাত্ করোনাকালে তাঁরা রোগীদের প্রতি ন্যূনতম সহানুভূতি প্রদর্শন করেননি। পরবর্তী সময়ে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করলেও রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা না দিয়ে, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এমনকি চিকিত্সা ছাড়া শুধু স্যালাইন লাগিয়ে হাজার হাজার টাকা বিল আদায়ের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ শোনা যায়। তবে দ্য ইকোনমিস্টের রিপোর্টমতে—মানুষকেই মানিয়ে নিতে হবে, কারণ বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ এখনো শুরু হয়নি ও প্রথম ধাক্কাই এখনো কাটেনি এবং ১ কোটির বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাত্ আরো ভয়াবহ দিন সামনে। সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটম ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ৮৪টি দেশের ওপর গবেষণার পর জানিয়েছে, প্রতিটি নতুন রোগীর শনাক্তের বিপরীতে আক্রান্ত ১২ জন অশনাক্তই থেকে যাচ্ছে!

মূলত সংক্রমণ কতটা ছড়াবে তা নির্ভর করে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ওপর। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে টেস্টিং, ট্রেসিং ও আইসোলেশনে। ব্যর্থতার অনিবার্য লকডাউন এবং জনস্বাস্থ্যসেবার খরচও থাকতে হবে সীমার মধ্যে। করোনা ভ্যাকসিন ব্যবহার এখনো অনেক দূরে, তবে ইতিমধ্যে থেরাপিগুলো পাওয়া যাচ্ছে। মহামারি পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে অর্থনীতিও। যদিও বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা বেশ নাজুক। তবে বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার অনুমতি দিয়েছে। মূল সমস্যটা হচ্ছে—প্রকৃত প্রতিষেধক ছাড়া এই প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে মানুষের সামাজিক আচরণ ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর। মাস্ক সংক্রমণরোধে সাহায্য করে, ঘনঘন সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ভাইরাস নিধন করে—এ কথা সরকারি প্রচার মাধ্যম প্রচার করা হলেও কিন্তু এখনো অনেকে পুরোনো অভ্যাস ছাড়তে পারছে না। সামাজিক রীতিনীতি বদলাতে হলে দরকার জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং বিশ্বাস স্থাপন। করোনা ভাইরাসের চিকিত্সাসেবা পাওয়া সবার ক্ষেত্রে খুব একটা সহজ নয়। হাসপাতাল-ক্লিনিকে ছুটোছুটি করতে করতে অনেকে শ্বাসকষ্টের কারণে শেষ নিঃশ্বাসটা ত্যাগ করছে পথেই কিংবা হাসপাতালের সন্নিকটেই। তাই এ সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

চট্টগ্রাম