স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিনব কায়দায় প্রতারণা করত তারা। কখনো অল্প টাকায় বেশি পরিমাণ সৌদি রিয়াল, কখনো আবার সোনার গয়না কিংবা সোনার বার দিতে চাইত। এভাবে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে তারা প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবশেষে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ রয়্যাল চিটিং গ্রুপের এই চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এরা হচ্ছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার ঘুনসি মধ্যপাড়ার আলমগীর হোসেন, দক্ষিণপাড়ার লুত্ফর সরদার, বামনডাঙা বড়বাড়ির বখতিয়ার হোসেন এবং ব্যাটক্যামারী গ্রামের মিজানুর রহমান। আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেফতার চার জন ‘রয়্যাল চিটিং গ্রুপের’ সদস্য। রাজশাহীতে প্রতারণার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর বর্ণালীমোড় থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ সৌদি রিয়ালের তিনটি নোট এবং দুটি গামছায় বিশেষ কায়দায় রাখা কিছু খবরের কাগজ উদ্ধার করা হয়। চার জনকে আটকের সময় অপর দুই জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ জুলাই পাঠানপাড়া এলাকার কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে ১০০ রিয়ালের বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অনুরোধ জানান। বলেন পরের দিন টাকা দিলেও চলবে। কামরুল মানি চেঞ্জারে গিয়ে ঐ আসল রিয়াল ভাঙিয়ে টাকা পান। এরপর ফোন করে ঐ প্রতারক চক্রকে টাকা নিতে বাসায় ডাকেন। তারা বাসায় গেলে কামরুল ৮০০ টাকা দেন। কিন্তু প্রতারকরা নেয় ৪০০ টাকা। এভাবে তারা বিশ্বাস স্থাপনের পর চক্রটি আবার কামরুলকে ফোন করে বলেন, তাদের কাছে ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের রিয়াল আছে। সেগুলোও তাকে দিতে চায়। ১৪ জুলাই প্রতারকরা কামরুলের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ সময় তাকে রুমাল দিয়ে বাধা একটি পোটলা দেয়। কামরুল সেটি বাসায় নিয়ে দেখে, ভেতরে সব খবরের কাগজ। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে সম্প্রতি প্রতারণা করে তারা প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সৌদি রিয়াল ছাড়াও তারা সোনার গয়না বলে নকল গয়না কিংবা নকল সোনার বার দিয়ে থাকে। পুলিশ প্রতারকদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার টাকা ব্যাংকে জমার রশিদ উদ্ধার করে। পুলিশ আরো জানায়, এই প্রতারকদের বিরুদ্ধে ঢাকা, সিলেট, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ফেনী, কুমিল্লা, রংপুর, যশোর ও রাজশাহী জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা এবং বিদেশি মুদ্রা জালিয়াতির মামলা রয়েছে।