দেশে তৈরি হচ্ছে নকল ওষুধ ও প্রসাধনী

বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়িতে তৈরি হওয়া এসব ওষুধ যাচ্ছে অভিজাত ফার্মেসিতে

পিনাকি দাসগুপ্ত

দেশে তৈরি হচ্ছে আমদানি নিষিদ্ধ নকল ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রী। রাজধানী ও টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়িতে তৈরি হওয়া এসব ওষুধ যাচ্ছে অভিজাত ফার্মেসিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এসব ওষুধে যে উপাদান ব্যবহার করা হয় তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বিদেশি ওষুধে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয় তার ছিটেফোটাও দেওয়া হয় না এসব ওষুধে। যেসব ওষুধ তৈরিতে ১০-১২ টাকা খরচ হয় সেগুলো ফার্মেসিতে বিক্রি হয় চড়াদামে। কোনো কোনো ওষুধ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ একটি ফ্ল্যাট বাড়ি (নকল ওষুধ কারখানা) থেকে জব্দ করেছে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রী। জড়িত থাকার অভিযোগে নকল ওষুধ কারখানার মালিক, অভিজাত ফার্মেসির সেলসম্যানসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও জরিমানা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান জোনের উপকমিশনার মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড থেকে ভিটামিন, মালটি ভিটামিন, চুল ও চোখের সিরাপ, ক্যাপসুল বিভিন্ন ধরনের লোশন আমদানি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর উত্তরা ও টঙ্গীর বিভিন্ন  ফ্ল্যাটে ঘরোয়া পরিবেশে একদল প্রতারক চক্র এসব ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রী তৈরি এবং বাজারজাত করে আসছে। গত ৯ জুলাই টঙ্গীর চেরাগআলী ও উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টর, জসিমউদ্দিন রোড ও ৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়ি থেকে শত শত কার্টন বোতল, তৈরিকৃত ওষুধ, নানা রকমের হলোগ্রাম, ট্রেডমার্ক বিএসটিআইর নকল লোগো, বিপুল পরিমাণ লোশন, ক্যাপসুল, ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অভিযানকালে ড্রাম, ড্রাম ভর্তি  প্রচুর মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল, ভেজাল কাঁচামাল জব্দ করা হয়।

ডিবি উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, এগুলো বিক্রি হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন নামিদামি ফার্মেসিতে। এর মধ্যে রয়েছে লাজ ফার্মা, তামান্না ফার্মা, ইসলামিয়া ফার্মা, আল মদিনা, গুলশান ফার্মা, নিউ বনানী ফার্মার ঢাকাস্থ সকল শাখা। এই নকল  ওষুধ কোনটা ১ হাজার ৬০০ টাকা, কোনটি ১ হাজার ৪০০ টাকা, কোনটির দাম ৬০০ টাকা।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন তারা রঙিন প্যাকেট, হলগ্রাম বারকোড তৈরি করেন ফকিরাপুল থেকে। মিটফোর্ড ও চকবাজার এলাকা থেকে প্লাস্টিকের কন্টেইনার ও বোতল সংগ্রহ করেন। র মেটেরিয়ালস ও গাছপালার লত সংগ্রহ করেন টঙ্গী থেকে। আর নামিদামি ফার্মেসির সুপারভাইজার, ম্যানেজারকে হাত করে এই ওষুধ গত পাঁচ বছর ধরে বিক্রি করে আসছেন তারা।

মশিউর রহমান বলেন, আমাদের এ অভিযানের সঙ্গে ওষুধ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন। অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারখানা মালিক সামসুল আরোফিন মো. শিবলু নোমানকে দেড় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা, কারখানার জেনারেল ম্যানেজার ফজলে রাব্বীকে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং অবৈধ কাঁচামাল সরবরাহকারী ও বিক্রয়কারীদের এক মাসের কারাদণ্ড এবং অন্যান্য কর্মচারীকে ১৫ এবং সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন। অভিযান পরিচালনাকালে এসব ভেজাল ওষুধ রাখার দায়ে লাজ ফার্মা ফার্মেসি , তামান্না র্ফামা ফার্মেসির উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টর এবং জসিমউদ্দিন রোডস্থ শাখাকে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।