নিয়মিত কোর্ট খোলার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন আইনজীবীরা। মানববন্ধন, সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা এ দাবি জানাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ছাড়াও সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ব্যানারেও দফায় দফায় এ দাবি জানানো হচ্ছে।
আইনজীবীদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কবে থেকে নিয়মিত কোর্ট চালু করা হবে সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ সুপ্রিম কোর্ট থেকে জানানো হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্ট বলছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধকল্পে বিচারক ও আইনজীবীসহ সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া মাত্র প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলছেন, করোনাকালে আইন পেশা আজ গভীর সংকটে নিপতিত। নিয়মিত কোর্ট খোলা না থাকায় তরুণ আইনজীবীসহ অনেক আইনজীবীর উপার্জন গিয়ে ঠেকেছে শূন্যের কোটায়। হতাশ হয়ে পড়ছেন অনেকে। কেউ কেউ এ পেশা ছেড়ে দিতেও মনস্থির করেছেন। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে নিয়মিত কোর্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। গত মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগীর সন্ধান মেলে। এরপর দুই মাস সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় বন্ধ থাকে আদালতের সকল কার্যক্রম। পরে ১১ মে থেকে চালু করা হয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতের বিচারকাজ। এসব কোর্টে শুধু হাজতি আসামির জামিন শুনানি চলছিল। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন অবিলম্বে দেশের সকল আদালত খুলে দিতে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতি সাময়িক ব্যবস্থা মাত্র। এই কোর্টে আগাম জামিন শুনানি হচ্ছে না। ফলে বিচারপ্রার্থীরা পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই দাবি জানান সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
এছাড়া সাধারণ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে নিয়মিত কোর্ট খোলার দাবি জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, সমাবেশ এবং সর্বশেষ প্রধান বিচারপতির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিও স্বাভাবিক বিচারব্যবস্থা চালু করতে প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানান। সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা দিয়ে বলা হয়, ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়মিত কোর্টের বিকল্প হতে পারে না। এই কোর্টে আগাম জামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যবস্থাপনা না থাকায় বিচারপ্রার্থী জনগণ ব্যাপক পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেজন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিয়মিত কোর্ট খুলে দেওয়া হোক।
আইনজীবীদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা একমত পোষণ না করায় নিয়মিত কোর্ট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন নি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
এ প্রসঙ্গে গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ আইনজীবীদের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কোর্ট খুলে দিতে আমরা সমিতির পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা দিয়েছি। এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রধান বিচারপতি ও বিচার প্রশাসনের। কারণ আমাদের চাওয়া বিচারপ্রার্থী জনগণকে যেন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়’।
ভার্চুয়াল কোর্টে শুরুতে জামিন শুনানি হলেও পরবর্তীকালে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিম্ন আদালতে আসামির সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদনের সুযোগ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।