গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান

ঠা ট্টা ঠ ক

 

অনুচ্ছেদ (১-১৪)

 

g  রাজীব নন্দী

 

v এই সংবিধানের মূলমন্ত্র হইবে—আমার বিবাহ আমি করিব, যাহাকে খুশি তাহাকে করিব।

v মেয়ের বাবা সম্প্রদায়ের উদ্দেশে লেখা থাকিবে—চাহিবামাত্র আপনার বিবাহযোগ্য মেয়েকে বিবাহ দিতে বাধ্য থাকিবেন।

v ‘সরকারি পাত্র ব্যতীত আমার কন্যা বিয়া দিমু না, প্রয়োজনে ঘরের পিলার বানামু’—পাত্রীদের প্রতি বাবা সম্প্রদায়ের এ রূপ ছেলেমানুষী কথাবার্তা বলা হইতে বিরত থাকিতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, বেসরকারি পাত্রদেরও বাচ্চা হইয়া থাকে।

v একজন বেকার ছেলে বিবাহের কথা বলিলেই মুরব্বিরা সমস্বরে গাহিয়া ওঠেন, ‘বিয়া কইরা খাওয়াবি কী?’ বউ মানেই খাদক প্রাণি—এরকম উদ্ভট ধারণার পরিবর্তন করা অতি জরুরি বলিয়া মনে করি।

v বেকারদের জন্য ‘গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ ম্যারেজ ব্যাংক কিংবা ব্রাইডাল ব্যাংক নামে ব্যাংক খুলিলে সেইখান হইতে লোন লইয়া বিবাহ করিবার পথ সুগম হইবে বলিয়া মনে করি।

v সভ্যতা টিকাইয়া রাখিবার মূল হাতিয়ার হইল জনগণ। তাই অন্যান্য মৌলিক চাহিদার মতো বিবাহকেও মৌলিক চাহিদা হিসেবে ঘোষণা করা হউক।

v অনেক পুরুষ একটিমাত্র বিবাহ সম্পন্ন করিয়া দমিয়া যায়, ফুলদানিতে ভিজাইয়া রাখা ফুলের মতো নিস্তেজ হইয়া পড়ে। অতি শীঘ্রই এর সঠিক কারণ জানিয়া, তাহা সংস্কার করিবার দাবি জানাইতেছি।

v বিবাহের নামে মেকআপ বিজনেস, ফটোশুট বিজনেস, সেলফি ডিজিজের মাত্রা দিনদিন বাড়িয়াই চলিতেছে। সময় থাকিতে এইসবের লাগাম টানিয়া ধরিতে হইবে।

v যৌতুকের নাম করিয়া দিনে-দুপুরে কোট-প্যান্ট পরিধান করিয়া সকলের চর্মচক্ষুর সম্মুখে ভদ্রবেশে ডাকাতি বন্ধ করিতে হইবে।

v বিবাহের রাতে মেয়েপক্ষের ঘাড়ে হাজার হাজার অতিথি সেবন করাইবার প্রথার নামে লুটপাট বন্ধে সুশীল সমাজের মুখের ঠুসি খুলিয়া এর বিরুদ্ধে কথা বলিতে হইবে।

v বিবাহের পর হনলুলু, পাতায়া কিংবা যেকোনো জায়গায় হানিমুন করিবার সম্পূর্ণ খরচ গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে বহন করিতে হইবে। তবে বাচ্চার দায়ভার পাত্র-পাত্রীই বহন করিবে।

v যেইদিন বাচ্চার ওয়া ওয়া  ক্রন্দন ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হইয়া উঠিবে, সেইদিন হইতে ওই দম্পতির গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান অনুসারে ‘নব-দম্পতি’ তকমা বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে। 

v বিবাহই জীবনের সব। জীবনে প্রচুর বিবাহ করিতে হইবে। তাই বিবাহ-পাগলা সমাজের জন্য অতি শীঘ্রই আলাদা ‘গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান’ ঘোষণা করা হউক।

v পরিশেষে মনে রাখিতে হইবে, বিয়ে যতই হউক না কেন, সন্তান যেন একটির বেশি না হয়। কারণ বিবাহের দায়িত্ব গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব যার যার।

পটুয়াখালী  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।