ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে সদ্ব্যবহার করা উচিত -----আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, যে পর্যন্ত আমাদের ওপর আল্লাহর রহমত থাকবে এবং  আমরা এক থাকব ততদিন এলাকাবাসী উন্নয়ন সুবিধা ভোগ করবেন। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে অনেক সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগ তথা প্রাপ্ত ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে সদ্ব্যবহার করা উচিত। আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমি কাউখালীর এই সন্ধ্যা নদীতে একটি ফেরি চালু করেছিলাম যা পরবর্তী বিএনপি সরকার আমলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আল্লাহর রহমতে আজ আবার আমার হাতেই সেই ফেরি পুনঃস্থাপিত হয়েছে।

তিনি গতকাল শুক্রবার পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলায় কাউখালী বন্দর থেকে সোনাকুর-আমড়াজুড়ি খেয়াঘাট সংযোগকারী সন্ধ্যা নদীর ওপর পুনঃস্থাপিত ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন কালে এ কথা বলেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ৩০ বছর আগে আমার হাত ধরেই এখানে ফেরি এসেছিল। বিগত ৩৬ বছরে কাউখালী-ভাণ্ডারিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে উন্নয়নসাধনের সুযোগ আমরা পেয়েছি তা ইমানের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করেছি। প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছ থেকে সম্মান, আস্থা তথা শ্রদ্ধা অর্জন করতে হয়। আমরা সব সময় মনে করি, কম কথা ভালো, কাজ বেশি করা উচিত। যেখানে বিভেদ থাকে, ঝগড়া থাকে সেখানে কাজ কম হয়। যেখানে বিভেদ নাই ঝগড়া নাই সেখানে বেশি কাজ করার সুযোগ থাকে।

তিনি বলেন, এই এলাকায় অনেক রাস্তাঘাট, পুল-ব্রিজ-কালভার্টসহ           বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়েছে। ১৯৯৮ সালে নবনির্মিত পিরোজপুরের বলেশ্বর সেতু উদ্বোধনের পর ঝালকাঠির গাবখান সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঁচানদীতে বেকুটিয়া সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তত্কালীন মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে আমাকে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্বে হলেও এখন বেকুটিয়া সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে উন্নয়ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের ধারাবাহিক প্রয়াসের কারণে।

তিনি বলেন, আমি যখন ১৯৮৪ সালে প্রথম কাউখালীতে আসি তখন এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। এদের মধ্যে অনেকেই সরকারের বড় বড় কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ১৯৯০ সালে কাউখালীর এই ফেরিটি স্থাপনের পর তা যখন পরবর্তীকালে বিএনপি আমলে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো তার প্রতিবাদ কেউই করেননি। আমার সৌভাগ্য, আমি ৩৬ বছর এলাকায় এমপি আছি, ১৮ বছর মন্ত্রিত্ব করেছি, আল্লাহর কি শান আজ ৩০ বছর পর সেই ফেরি সার্ভিস আবার আমাদের হাতে ফিরে এসেছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে আমার প্রতি এলাকাবাসীর একতাবদ্ধ সমর্থনের কারণে। যতদিন ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানীর মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে ততদিন আল্লাহর রহমতে এলাকাবাসীর ভাগ্য উন্নয়ন সাধিত হবেই। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এ সময় পুনঃস্থাপিত ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন শেষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। 

কাউখালী স্টিমার অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সভায় পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন কাউখালীর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন ও উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম নসু। এ সময় মঞ্চে ছিলেন কাউখালীর প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী হারুন অর রশীদ, ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জমাদ্দার, আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামসুদ্দোহা চাঁদ, সয়না-রঘুনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান এলিজা সাঈদ ঝুমুর, চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ খান খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহাজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, উপজেলা জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল মাহফুজ পায়েল প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি জিয়াউল আহসান জুয়েল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল ফেরি বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তাসনীম কবির, সহকারী প্রকৌশলী প্রসেনজিত, কাউখালীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ওয়াহেদুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।   

এরপর তিনি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে চেক ও নগদ অর্থ এবং ঢেউটিন বিতরণ করেন। সংসদ সদস্যের অনুকূলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত অর্থের চেক, সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের নগদ অর্থের চেক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল বিকালে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের দারুস সুন্নাত জামেয়া-এ-ইসলামিয়া কামিল ডিগ্রি মাদ্রাসার চারতলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। উদ্বোধনকালে কাউখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল হক, থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী লাল মোহাম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভাণ্ডারিয়ায় জাতীয় পার্টি-জেপির পরিচিতি সভা

পিরোজপুর অফিস ও ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল শুক্রবার রাতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি অফিসে নেতাকর্মীদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। জাতীয় পার্টি-জেপির উপজেলা ও পৌর কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনসমূহের নতুন মনোনীত নেতাকর্মীদের এক পরিচিতি সভায় উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল হক মনির সভাপতিত্বে এখানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, উপজেলা জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, উপজেলা জেপির যুুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার ও উপজেলা জেপির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল।

অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, এলাকার উন্নয়নে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যেও একতা থাকা দরকার। কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জেপিসহ ১৪ দল একত্রে রাজনীতি করে, দেশ পরিচালনা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের কাজ করতে হবে। আমিও সব সময় ঐক্যের কথা বলে আসছি। জাতীয়ভাবে যখন আমরা একতাবদ্ধ তখন কোনো ১৪ দলের শরিকের মধ্যে স্থানীয়ভাবে বিভাজন কাম্য নয়।

এই পরিচিতি সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নদমূলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, উপজেলা জেপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেস, জেপি নেতা শাহজাহান তালুকদার, পৌর জেপির নতুন আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন মিয়া স্বপন প্রমুখ।