সত্যজিত্ বিশ্বাস
আজকালকার মেয়েরা অনেক হেল্পফুল
প্রথম বন্ধু :আজকালকার মেয়েরা অনেক হেল্পফুল, জানিস?
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন? কী হয়েছে?
প্রথম বন্ধু :না মানে, এই শীতে যতবারই কোনো মেয়ের হাত ছুঁয়ে মুহূর্তের জন্য উষ্ণতা পেতে চাইলাম, ততবারই ঘণ্টাখানেকের জন্য উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল।
দ্বিতীয় বন্ধু :বলিস কী, তুই তো অনেক লাকি। বল না, কী করে? আমিও অ্যাপ্লাই করি।
প্রথম বন্ধু :যতবারই কোনো মেয়ের হাত ছুঁতে গেলাম, হাতে হাত না ছুঁয়ে, ছুঁয়ে দিল আমার কানের নিচে।
প্রেমিক-প্রেমিকা
খুঁজলাম :সুন্দর একটা মন
পেলাম :বেশ কিছু সেলফি
হারালাম :সেলফির পাশের মানুষটাকে
বেকার
খুঁজলাম :চাকরি
পেলাম :টিউশনি
হারালাম :জুতার শুকতলি
ঠাট্টা সম্পাদক
খুঁজলাম :দুর্দান্ত কিছু রম্য লেখা
পেলাম :গোটা কয়েক নতুন ঠাট্টারু
হারালাম :এদের লেখার ফান কোথায়, তা খুঁজতে গিয়ে মাথার চুল
বোঝে না, কেউ বোঝে না
প্রথম বন্ধু :দোস্ত, খুব একা একা লাগে রে। কারও পাশে খুব হাঁটতে ইচ্ছা করে।
দ্বিতীয় বন্ধু :এক কাজ কর, বিয়ে করে ফেল।
প্রথম বন্ধু :দৌড়ের উপর থাকতে ইচ্ছা করে, একবারও বলেছি?
বাসরঘরের চুক্তি
নতুন জামাই :যা হোক, অবশেষে আমাদের বিয়েটা হলো। এখন থেকে আমাদের সংসারে তুমি হলে রাজা। কী, খুশি তো?
নববধূ (ঘোমটার ভিতর থেকে মাথা নাড়িয়ে) :উঁহু।
নতুন জামাই :আচ্ছা, ঠিক আছে আমি রাজা। তুমি প্রধানমন্ত্রী। এবার খুশি?
নববধূ (ঘোমটার ভিতর থেকে মাথা নাড়িয়ে) :উঁহু।
নতুন জামাই :তাহলে?
নববধূ (ঘোমটার ভিতর থেকে মাথা নাড়িয়ে) :রাজা, প্রধানমন্ত্রী, সেনাপতি সব তুমি।
নতুন জামাই :ও আমার লক্ষ্মী বউ। তাহলে তুমি?
নববধূ (ঘোমটা নামিয়ে) :আমাকে শুধু কোষাধক্ষ্যের পদটা দিলেই হবে।
বিয়ের উপহারের খোঁজে একদিন
বইয়ের দোকানি :ভাই, তখন থেকে খালি দেখেই যাচ্ছেন, কী ধরনের বই খুঁজছেন বলবেন?
ক্রেতা :খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর বিয়েতে উপহার দেওয়ার জন্য বই খুঁজছিলাম।
বইয়ের দোকানি :ও এই ব্যাপার, এখনই দিচ্ছি।
ক্রেতা :কী নাম বইয়ের?
বইয়ের দোকানি :‘সুনামী ও পুনর্বাসন’।
সিগারেটের বিজ্ঞাপন
বিয়ে করতে দ্বিধা কী? কেউ পাশে না থাকলেও আমি ছিলাম, আছি, থাকব।
অভয় বাণী
নির্দ্বিধায় বিয়ে করুন। যদি আপনি মারা যান, বউ হবে বিধবা। আর বউ মারা গেলে, আপনি হবেন ব্যাচেলর।
কোন পক্ষ
বিয়ের প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান চলছে এক নামী হোটেলে। একজন অতিথি আসার সঙ্গে সঙ্গে রিসিপশনে দাঁড়ান হোটেল কর্মচারী এল অভ্যর্থনা জানাতে।
কর্মচারী :আপনি বরপক্ষ না কনেপক্ষ?
অতিথি :আমি বর ও কনে দুজনেরই বন্ধু।
কর্মচারী :প্লিজ, আপনি যেকোনো একটা পক্ষ বেছে নিন।
অতিথি :এ আবার কেমন কথা! আমি দুইপক্ষই হতে পারি না?
কর্মচারী :তা পারেন, তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে খাওয়াদাওয়া না করেই চলে যেতে হবে।
অতিথি :কেন?
কর্মচারী :আমাদের এখানে দুই রুমে দুই পক্ষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরপেক্ষ কিংবা ডাবলপক্ষের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
মরণোত্তর উপদেশ
এক মৃত্যু পথযাত্রী বৃদ্ধ তার নাতিকে ডেকে বললেন, ‘দাদুভাই, আমি তো ২-১ দিনের মধ্যে মারা যাব। মারা যাওয়ার আগে তোমাকে একটা উপদেশ দিয়ে যাই। তোমার বাবাকে দিয়েছিলাম, সে তো মনে রাখল না। তুমি কিন্তু ভুলো না কখনো। নির্ঝঞ্ঝাট, নিশ্চিন্ত হয়ে বাঁচতে চাইলে কখনো বিয়ে করো না।’
নাতি :তুমি নিশ্চিন্তে থাক দাদু, তোমার উপদেশ কখনো ভুলব না। আমার মৃত্যুর সময় আমার নাতি, নাতনিকেও এই উপদেশ দিয়ে যাব।
সম্মোহনী শক্তি
ছাত্রী :স্যার, সম্মোহন শক্তি কী?
মনোবিজ্ঞান অধ্যাপক :সম্মোহন শক্তি বিরাট শক্তিশালী একটা ক্ষমতা। যেমন ধর, এই শক্তি দ্বারা তুমি যাকে সম্মোহন করতে চাও তাকে দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিতে পার। এমনকি, সে তখন তোমার কথায় উঠবস করতে বাধ্য হবে।
ছাত্রী :কী যে বলেন স্যার, এর নাম কি সম্মোহন শক্তি?
অধ্যাপক :তবে?
ছাত্রী :এর নাম তো বিয়ে।
মাল্টি কালার
প্রথম বন্ধু :কীরে দোস্ত, কাল যে মেয়ে দেখতে গেলি, দেখতে কেমন?
দ্বিতীয় বন্ধু :মেয়ে তো দেখতে মাল্টিকালার।
প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব?
দ্বিতীয় বন্ধু :ঠিকই বলছি রে দোস্ত। মুখের রং এক, হাতের রং আরেক, পায়ের রং আবার আরেক।
কী এমন কথা
প্রথম বন্ধু :কীরে বন্ধু, কেমন আছিস? তোর বউ কেমন আছে?
দ্বিতীয় বন্ধু :আমি তো ভালোই আছি। বউও মনে হয় ভালোই আছে।
প্রথম বন্ধু :মনে হয় মানে?
দ্বিতীয় বন্ধু :বউ তো এখানে না। কী এক কথায়, রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেছে মাস ছয়েক আগে।
প্রথম বন্ধু :কেন রে, কী এমন বলেছিলি?
দ্বিতীয় বন্ধু :কী বলেছিলাম, তা কী এখন মনে আছে!
প্রথম বন্ধু :প্লিজ দোস্ত, একবার মনে করে দেখ না। আমার বউটার ওপর একবার ট্রাই করে দেখতাম।
যার মনে যা
স্ত্রী :বিয়ের আগেই ভালো ছিল। তখন আমাকে কত ভালোবাসতে। একটুও ঝগড়া করতে না।
স্বামী :ঠিকই বলেছ। কী সুন্দর ছিল দিনগুলো।
স্ত্রী :ইশ, সেই দিনগুলোতে আবার ফিরে যাওয়া যেত?
স্বামী :সত্যি চাইছ? চাইলে কিন্তু ব্যবস্থা করা যায়।
ব্যস্ততা
প্রথম বন্ধু :কীরে দোস্ত, বিয়ে করেই পাল্টে গেলি? কাল অন্তত পাঁচবার ফোন দিলাম। ধরলিও না, ফোন ব্যাকও করলি না?
দ্বিতীয় বন্ধু :আসলে দোস্ত হয়েছে কী, আমি দেখিইনি। নাহলে ধরব না, তাই কখনো হয়?
প্রথম বন্ধু :দেখিনি মানে? এত ব্যস্ত বউকে নিয়ে?
দ্বিতীয় বন্ধু :না, মানে ঠিক তা না। বিয়ের পর থেকে আমার মোবাইলটা নিয়ে বউই খুব ব্যস্ত, তাই।
বছর শেষে পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব
স্বামী-স্ত্রী
খুঁজলাম :ভালো বাসা+ভালোবাসা
পেলাম :ভালো বাসা
হারালাম :ভালোবাসা
চাকরিজীবী
খুঁজলাম :প্রমোশন
পেলাম :আশার বাণী
হারালাম :মূল্যবান একটি বছর
সুশীল
খুঁজলাম :ইস্যু
পেলাম :নতুন বছরের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার
হারালাম :ঘটনাবহুল ২০১৮
নেতা
খুঁজলাম :নমিনেশন পেপার
পেলাম :নির্বাচন
হারালাম :আমাদের হারানোর কিছু নেই
কিছুই নেই
দর্শনার্থী :আমার হাতটা দেখে দেবেন? নতুন বছরে আমার কী সম্ভাবনা আছে?
জ্যোতিষী :এমন বিরল রেখার হাত তো দেখাই যায় না আজকাল।
দর্শনার্থী :বলেন কী? নতুন বছরে কি অনেক টাকা-পয়সা হবে?
জ্যোতিষী :না, তা না।
দর্শনার্থী :তবে কি কোনো মডেল কন্যা কিংবা নায়িকার সাথে আমার বিয়ে হবে?
জ্যোতিষী :না, তাও না।
দর্শনার্থী :তাহলে কি বড় কোনো কোম্পানিতে চাকরি পাব?
জ্যোতিষী :উহু।
দর্শনার্থী :তাহলে কি ফেসবুকে পরিচিত কোনো বিদেশিনী বিয়ে করে আমাকে নিয়ে যাবে?
জ্যোতিষী :আরে না।
দর্শনার্থী :তাহলে উন্নতি হবার মতো কী দেখলেন?
জ্যোতিষী :উন্নতির কিছুই দেখলাম না বলেই তো বললাম।
ভবিষ্যত্ নেই?
দর্শনার্থী :আচ্ছা, হাতে কি সত্যি ভবিষ্যত লেখা থাকে?
জ্যোতিষী :আলবত্ থাকে।
দর্শনার্থী :তাহলে আমার হাতটা দেখে বলেন তো, নতুন বছরটা কেমন যাবে?
জ্যোতিষী :এ কী, আপনার হাতে তো কোনো রেখাই নেই!
দর্শনার্থী :তার মানে, আমার কোনো ভবিষ্যত্ নেই?
নতুন বছরে যা হবেই
নতুন বছরে যা বাড়বেই—বয়স।
নতুন বছরে যা কমবেই—টাকার মান।
নতুন বছর যা নিয়ে আসবেই—নতুন ক্যালেন্ডার।
ঘরের নতুন লুক
বউ :আচ্ছা শোনো, নতুন বছর চলে এসেছে। পুরোনো সোফা সেট, টিভি আর জানালার পর্দাগুলো কিন্তু বদলে ফেলব। আচ্ছা, আর কী বদলালে ঘরে একটা নতুন লুক আসবে বল তো?
স্বামী :আমাকে।
একটু সময় লাগে না, তুমিই বলো?
আবুল সাহেব :কী ব্যাপার, নতুন বছরের আগমনে শাড়ি কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরলে যে?
গিন্নি (রাগে গোঁ গোঁ করতে করতে) :শাড়ি চয়েজ করতে একটু সময় লাগে না, তুমিই বলো?
আবুল সাহেব :তা তো লাগেই। কেন, কী হয়েছে?
গিন্নী :কয়েকটা শাড়ি দেখে, আবার যেই প্রথম শাড়িটা চাইলাম অমনি দোকানদার বলে ওটা নাকি ঘণ্টাখানেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।
শীত এলে কার কী খোঁজাখুঁজি
নেতা খোঁজে :ভোট
ভোটার খোঁজে :চা, সিগারেট
কবি খোঁজে :খেজুরের রস
ফেসবুকার খোঁজে :সরিষার ক্ষেত
রিকশাওয়ালা খোঁজে :দ্বিগুণ ভাড়া
খাদ্য রসিক খোঁজে :পিঠার দোকান
প্রেমিক খোঁজে :উষ্ণতা
প্রেমিকা খোঁজে :ফাস্ট ফুডের দোকান
মা-বাবা খোঁজে :বাচ্চাদের পরীক্ষার রেজাল্ট
ব্যাচেলার খোঁজে :বিয়ে বাড়ি
বিবাহিতরা খোঁজে :লেপ
আর জোকস লেখক খোঁজে :জোকস লেখার ইস্যু
শীতকালেই কেন
প্রথম বন্ধু :আচ্ছা বল তো, গার্জিয়ানরা সাধারণত :শীতকালেই কেন সন্তানের বিয়ে ঠিক করে?
দ্বিতীয় বন্ধু :উমমমম, মনে হয় শাস্তি দেওয়ার জন্য।
প্রথম বন্ধু :বিয়ে মানে শাস্তি?
দ্বিতীয় বন্ধু :শীতকালে যারা গোসল করতে চায় না, তাদের জন্য শাস্তি নয়তো কী?
গাধা কে?
প্রথম দোস্ত :কাল আমার বিয়ে, আসবি কিন্তু।
দ্বিতীয় দোস্ত :বলিস কী? তাহলে তো আজ তোর জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।
প্রথম দোস্ত :আরে গাধা, বিয়ে আজ না আগামীকাল।
দ্বিতীয় দোস্ত :সেই জন্যই তো আজ বললাম। বিয়েটা হয়ে গেলেই বুঝবি, গাধা কে, আমি না তুই।
ভুলতে পারে না বলেই তো
প্রথম বন্ধু :একটা ব্যাপার খেয়াল করেছিস? বিয়ে হয়ে যাবার পর অধিকাংশ জামাইরাই তাদের শ্বশুর-শাশুড়িকে পছন্দ করে না।
দ্বিতীয় বন্ধু :হুম, এটা ঠিক।
প্রথম বন্ধু :কিন্তু তারা এটা ভাবে না, এই শ্বশুর-শাশুড়ি নিজ হাতে তাদের মেয়েকে তুলে দিয়েছে বলেই পেয়েছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :এটা ভুলতে পারে না বলেই তো করে না...
কার্টুন মেনন খান