গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি শনিবারও বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদ-নদী তীরবর্তী জেলার ৪ উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের দেড় লাখ পানিবন্দী মানুষ শুকনো খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, জ্বালানি, পয়ঃনিস্কাশন ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। 

এদিকে যমুনা নদীর পানির চাপে গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নীলকুঠি এলাকায় সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ডুবে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। 

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানিও ২৮ সেন্টিমিটার কমেছে। পানি কমলেও শনিবার বিকাল তিনটায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়িঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৯০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার বিকেল তিনটায় করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিনি বলেন, পানি কমা শুরু হয়েছে। আশা করা যায় কয়েকদিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

আরও পড়ুন: ফাহিমের খুনির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ অভিযোগ গঠন

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্বিতীয় দফায় এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুখাদ্য চার লাখ টাকার, গোখাদ্য দুই লাখ টাকার ও ৩ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

গাইবান্ধা জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, জেলার বন্যায় চারটি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৬ হেক্টর জমির পাট, আমন বীজতলা, আউশ ধান ও শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘বন্যা কবলিত এলাকায় পশু খাদ্য সরবরাহের জন্য দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অতি দ্রুত এই পশু খাদ্য সরবারহ করা হবে। এছাড়া এসব এলাকায় ১১টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।’

ইত্তেফাক/এএএম