স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
“জ্ঞান হওয়ার পর এ পর্যন্ত কোনো বছর কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত থাকিনি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এবার পরিস্থিতিটা অন্যরকম। হাটের ভিড়ের মধ্যে কিভাবে পশু কিনব, আবার প্রতি বছর লোকজনকে ডেকে পশু জবাই ও আনুষঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করতে হয়, এবার এই পরিস্থিতিতে কাকে ডেকে এসব কাজগুলো করাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তাই এবার কোরবানি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ভাবছি”।
কোরবানির কথা বলতেই এমন কথা বলছিলেন দিনাজপুর শহরের বাহাদুরবাজারের এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। শুধু তিনি নন, করোনা পরিস্থিতিতে এবার কোরবানি নিয়ে এমন ভাবছেন অনেকেই। এমন অবস্থায় অন্য বছর দিনাজপুর জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার পশু কোরবানি হলেও এবার এর পরিমাণ কমবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। কোরবানির দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসলেও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে এবার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পশুর খামার মালিক ও কোরবানিদাতারা।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব মতে দিনাজপুর জেলায় এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজারেরও বেশি পশু। আর দিনাজপুর জেলায় চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার পশু। এমনিতেই দিনাজপুর জেলায় এবার প্রায় ৬০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত। করোনা ভাইরাসের কারণে কোরবানির সংখ্যা কমলে উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো বাড়বে। এদিকে পশুর খামার মালিক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত তেমন ঢাকা বা বাইরের জেলার ব্যাপারিরা আসেনি। যারা এসেছে, তারাও তেমন দাম বলছে না। এই অবস্থায় খামার মালিক ও পশুবিক্রেতারাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। অনেক পুঁজি বিনিয়োগ করে পশু পালন করার পর লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহীনুর ইসলাম জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার কোরবানির জন্য ৫৯টি হাট বসছে। করোনা সংক্রমণ রোধে এসব পশুর হাটে একমুখী প্রবেশের ব্যবস্থা, জীবাণুনাশক স্প্রে, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাস্ক ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৩টি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও হাটে না গিয়েও পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অনলাইন পেজ চালু করা হয়েছে।