ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা
শেরপুরের সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। ফলে নদীর দুই পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হলেও বালু তোলা বন্ধ হয়নি।
বালিজুরী গ্রামের নুরুল হকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বালুদস্যুরা অর্ধশতাধিক শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু লুটপাট করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০/৬০ ট্রাক বালু উত্তোলন ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। দিনেরাতে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু।
বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি করা হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে প্রতিদিন গড়ে ৫/৬ লাখ টাকা মূল্যের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত ৪ জুন শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। ধ্বংস করা হয় ৯টি বালু উত্তোলন যন্ত্র। কিন্তু বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন।
কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন।
শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, গত মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর গত কয়েকদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ ও শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা আক্তার বলেন, ৪ জুন অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আবারও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে।