করোনার থাবায় স্থবির পৃথিবী

রোকসানা সুইটি

করোনা ভাইরাস বর্তমান সময়ের একটি আতঙ্কের নাম! এর থাবায় যেমনি মানুষ  হারাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ, ঠিক তেমনিভাবে যারা বেঁচে আছে তারাও না খেয়ে মরে যাওয়ার অবস্থাতে পড়েছে। পুরো পৃথিবী এর প্রকোপে স্থবির হয়ে গেছে, থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা। খেটে খাওয়া মানুষের আজ ভিক্ষা করে চলার অবস্থাও নেই। নিম্ন-মধ্যবিত্তরা ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে গ্রামের পথে। চাকরি নাই, ছাঁটাই হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। বেকারত্ব বাড়ছে। মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্তদের তালিকায় যাচ্ছে। না পারছে বলতে কাউকে, আবার না পারছে সহ্য করতে। অভাব বাসা বাঁধছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছে না। ওরা এখন বড়ই অসহায় অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে। কী হয় শেষ পর্যন্ত তা চিন্তা করতেও ভয় হয়। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জারি করা লকডাউন বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ থেকেই ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে একটা কারণ দেশগুলোর অর্থনীতি যাতে আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে। অর্থাত্ লকডাউন ও বিধি-নিষেধের কারণে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতি যাতে পুনরায় সচল হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ ধারণা করছে যে, এসব লকডাউনের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এ বছর ৩ শতাংশ সংকুচিত হবে। কিন্তু এর আগে তারা ঠিক পুরো উলটো ধারণা করে বলেছিল যে এ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে ৩ শতাংশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই পরিস্থিতি কত দিন স্থায়ী হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতি এই মন্দা পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বের হয়ে আসবে? আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ বলছে, অর্থনীতিতে কোভিড-নাইনটিনের সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ২০২০ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে অর্থাত্ এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে। তবে এটাও আশা করা হচ্ছে যে, এ বছরে যখন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে খুলে দেওয়া হয় তখন মন্দা পরিস্থিতি কেটে যেতে শুরু করবে। আর বছর শেষেও যদি লকডাউনের মতো বিধি-নিষেধ বহাল থাকে তাহলে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে এবং তার ফলে বহু মানুষ তাদের চাকরি হারাবে। যদি এ রকম কিছু হয়, তাহলে মন্দা আরো অনেক বেশি গভীর হবে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসতেও অনেক সময় লাগবে। অর্থনৈতিক মন্দা ও তা থেকে পুনরুদ্ধারের উপায় কী হতে পারে তা এখন ভাবনার বিষয়।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ করোনার প্রকোপে নিজেদের কতটুকু সামাল দিতে পারবে তা গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসে গেছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে অর্থনীতির দিক থেকে ভেঙে পড়ছে সেখানে আমাদের দেশের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হবে তা দেখা এখন সময়ের ব্যাপার। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় আছে মধ্যবিত্ত সমাজ। তারা না পারছে সইতে না পারছে কইতে। জীবনযাত্রার ব্যয় মিটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। আয় না থাকলে ব্যয় তো ঠিকই করতে হচ্ছে। মাস শেষ হলে বাসা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এই চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তায় নামলে যেমন আতঙ্কিত হতে হয় মৃত্যু ভয়ে ঠিক তেমনইভাবে ঘরে আসলে চেপে ধরে অভাব নামক আতঙ্ক। এখন জীবন মৃত্যুর মাঝ বরাবর জীবন। কখন কী হয় তা বলার সাধ্য কারো নেই। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কোনো কিছুই কেউই বলতে পারবে না। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে হেফাজতে রাখুন এই মরণথাবা থেকে।

n লেখিকা :সাবেক শিক্ষার্থী, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ