বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহকে (৩৩) হত্যার দায়ে তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টাইরেস ডেভন হাসপিলের (২১) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার (সেকেন্ডে ডিগ্রি) হত্যা সংঘটিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে হাসপিলের বিরুদ্ধে কেন প্রথম মাত্রার (ফার্স্ট ডিগ্রি) হত্যা সংঘটনের অভিযোগ আনা হলো না এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও অপরাধ বিজ্ঞানী ড. রাজুব ভৌমিক নিউ ইয়র্ক স্টেটের বিদ্যমান আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, নিউ ইয়র্ক স্টেটে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার এবং সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার-এর সাজা সমান। দুটি একই রকম অপরাধ (এ-১ ফেলোনি)। হাসপিলের বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্কের বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই রাজ্যে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার-এর অভিযোগ শুধু পুলিশ, দমকল কর্মী ও পিস কিপিং অফিসারকে হত্যা করলে আনা হয়। সাধারণ নাগরিক বা সিভিলিয়ান খুনের শিকার হলে সর্বোচ্চ সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার-এর অভিযোগ আনা হয়। তিনি আরো জানান, নিউ ইয়র্কে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। ফলে সেকেন্ড ডিগ্রি হত্যাকাণ্ডেও সর্বোচ্চ শাস্তি প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাসপিলের এই দণ্ড হতে পারে।
ফাহিম হত্যা নিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রোডনি হ্যারিসন বলেন, ফাহিম সালেহের অর্থনৈতিক এবং ব্যক্তিগত বিষয়গুলো তদারকি করতো ‘সন্দেহভাজন’ হাসপিল। পুলিশ বলছে, ফাহিমের কাছ থেকে হাসপিল বিভিন্ন সময় এক লাখ মার্কিন ডলার ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু ধার পরিশোধ না করে হাসপিল ঐ অর্থ আত্মসাত্ করেন। ফাহিম ঐ অর্থ ফিরিয়ে দিতে তার সহকারীকে সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপিল অর্থ ফেরত না দিয়ে ফাহিমকে হত্যার পথ বেছে নেন। ফাহিম ও হাসপিলের টেক্সট ম্যাসেজের সূত্র ধরে পুলিশ এই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে।
পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ফাহিমের খুনিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। সে অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির আঞ্চলিক টাস্কফোর্স নিউ ইয়র্ক সিটির ১৭২ ক্রসবি স্ট্রিটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে হাসপিলকে গ্রেফতার করে। এয়ার বিএনবির মাধ্যমে বিপুল ভাড়ায় এই ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল সে। এয়ার বিএনবির ভাড়াও পরিশোধ করা হয়েছে ফাহিমের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে। এর আগে ফাহিমের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে হোম ডিপো থেকে মেঝ পরিষ্কার করার জিনিসপত্র কেনে হাসপিল। পুলিশ এসব স্থানের ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করেছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকালে নিউ ইয়র্ক সিটির লোয়ার ইস্ট ম্যানহাটনের বিলাসবহুল কনডোমিনিয়াম (অ্যাপার্টমেন্ট) থেকে ফাহিমের টুকরো করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফাহিম ২০১৫ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’। বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হয় পাঠাওয়ে। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরে নাইজেরিয়ায় চালু করেন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘গোকাডা’। সরকার সেটি বন্ধ করে দিলে চালু করেন পার্সেল সার্ভিস। সেটিও জনপ্রিয়তা পায় দেশটিতে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ায় আরো একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টেক জায়ান্ট ফাহিম সালেহ।