বিশেষ প্রতিনিধি
দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭০৯ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৬৬ জন। গতকাল শনিবার দুপুরে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ৩৪ জন। তাদের নিয়ে করোনা ভাইরাসে ?মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮১।
আর আইইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসেবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ১ হাজার ৩৭৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮ জন হয়েছে। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর এসেছিল। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছিল তিন মাস পর গত ১৮ জুন; তার ঠিক এক মাস পর ১৮ জুলাই সংখ্যাটি ২ লাখ ছাড়াল। শনাক্ত রোগী ১০০ হতে সময় নিয়েছিল ২৮ দিন। এরপর মাত্র আট দিনে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরবর্তী ১৮ দিনে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার। এর পরের ১৮ দিনে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে মোট শনাক্ত রোগী। পরের ১৬ দিনে মোট শনাক্ত রোগী লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর ৩০ দিনে মোট শনাক্ত রোগী ২ লাখ ছাড়াল। দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সংখ্যাটি ১০০ পেরুতে যেখানে ২৮ দিন লেগেছিল, সেখানে শেষ ১ লাখ রোগী বাড়তে সময় লাগল মাত্র ৩০ দিন।
বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা শনিবার ১ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে, মৃতের সংখ্যাও ৬ লাখ পেরিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গত ১০০ ঘণ্টায় এই প্রথম বিশ্বে ১০ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটিতে ৩৬ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, সেখানে রোগীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে সপ্তদশ; রোগীর সংখ্যায় জার্মানিকে ছাড়িয়ে এখন ফ্রান্সের পরেই রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে শনাক্ত রোগী বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ; এই হার ভারতে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ শতাংশের কাছাকাছি। বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর হার ১৫ শতাংশের ওপরে। তবে নমুনা পরীক্ষায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে দেড় লাখকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে, বাংলাদেশে সেখানে প্রতি ১০ লাখে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬ হাজার জনের।