করোনা মহামারি বিস্তারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এ বছর পশুর হাট সীমিত করা হচ্ছে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে রাজধানীতে ২৪-২৫টি পশুর হাট বসলেও এ বছর ছোট পরিসরে উত্তর আর দক্ষিণ সিটি মিলে নির্ধারণ করা হয়েছে ১১টি জায়গা। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধিও ঘোষণা করা হয়েছে। হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্বাস্থ্যবিধি মানতে ব্যর্থ হলে ইজারা বাতিল করা হবে।
শুরুতে ২৬টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুই সিটি। সেখান থেকে নেমে এসে এখন ঢাকা উত্তর সিটিতে ছয়টি এবং দক্ষিণে মাত্র পাঁচটি হাট বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাঁশ, খুঁটি ও শামিয়ানা নিয়ে ব্যস্ত ইজারাপ্রাপ্ত ও ব্যাপারীরা। ঈদের দিনসহ পাঁচ দিন বসবে হাট।
২৭ জুলাই শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণে উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ মাঠ, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট, কমলাপুর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠ, আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জির সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে হাটের জন্য।
উত্তর সিটিতে নির্ধারিত জায়গাগুলো হলো—পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনি, কাউলা, উত্তরার বৃন্দাবন, বসিলা, উত্তরখান ও ভাটারা। হাট ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু গাইডলাইন দিয়েছে। হাটের প্রবেশপথে বাধ্যতামূলক হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে, মাস্ক পরতে হবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারির এ দুর্যোগে রাজধানীসহ দেশের সব পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্দিষ্ট স্থানে পশুর হাট বসানো হবে। রাস্তার ধারে কোনোপ্রকার পশুর হাট বসানো যাবে না। যেসব স্থানে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। প্রতিটি হাটে মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।
আরও পড়ুন: ইতালীয় গণমাধ্যমে বিএনপি নেতার বক্তব্য, বিপাকে বাংলাদেশিরা
ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, শিশু ও বয়স্করা যারা বিগত বছরগুলোতে পছন্দের পশুটি কিনতে বিভিন্ন হাটে যেতেন, আমি অনুরোধ করব এ বছর আপনারা এভাবে গরুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দূরত্ব নিশ্চিত, পর্যাপ্ত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও সচেতনতামূলক মাইকিং থাকবে। এসব হাট আমাদের কাউন্সিলর ও ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখবেন।
ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসও ষাটোর্ধ্ব বয়সি ব্যক্তিদের কোরবানির পশুর হাটে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। যারা কোরবানির পশুর হাটে যাবেন, তারা মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরে যাবেন এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন সেই অনুরোধ করছি।
ঢাকা দক্ষিণে বাড়তে পারে তিনটি পশুর হাট :এরই মধ্যে পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট চূড়ান্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বাকি হাটগুলোর বিষয়ে তৃতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আজ রবিবার দরপত্র খোলা হবে। আগামীকাল ২০ জুলাই হাটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, তিনটির মতো বেড়ে আটটি করা হতে পারে দক্ষিণের পশুর হাট।
অনলাইনে গরুর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে : ক্রেতারা বলছেন, অনলাইনে গরুর দাম বেশি, এই দামে তাদের পোষাবে না। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দারাজসহ অন্যান্য অনলাইনে ৯০ কেজি গোশত হবে এমন একটি গরুর দাম লিখে রাখা হয়েছে ৬০-৬৬ হাজার টাকা। অর্থাত্ প্রতি কেজি গোশতের দাম পড়বে ৬৬৬ টাকা। অথচ বাজারে গোশতের কেজি ৫৫০-৫৭০ টাকা।
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, এরই মধ্যে গরুর সর্বোচ্চ দাম ধরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ক্রেতারা জ্যান্ত গরুর ক্ষেত্রে (লাইভ গরু) ৪০০ কেজির নিচে প্রতি কেজি ৩৭৫ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০ কেজির মধ্যে প্রতি কেজি ৪২৫ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি বা তার বেশি ওজনের গরুর জন্য ৪৭৫ টাকা কেজি দরে কিনবেন। এটা সর্বোচ্চ দাম, এর উপরে যাবে না।
ইত্তেফাক/এএএম