শিবচরে ভয়াবহ বন্যা, চিফ হুইপের নির্দেশে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পদ্মা নদীর পর এবার মাদারীপুরের শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদেও ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের বন্দরখোলা ও চরজানাজাত ইউনিয়ন অধিকাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে হু হু করে পানি বাড়ায় পদ্মার চর অঞ্চলের এই দুই ইউনিয়নের জনগণের বসতঘর, রান্নাঘর, টয়লেট, গোয়ালঘরে এখন কোমর পানি। নলকূপও ডুবে গেছে। রান্না করতে এবং টয়লেটেও যেতে পারছেন না অনেকে। ফলে গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জনগণ। 

এজন্য তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কাঁঠালবাড়ী, মাদবরেরচর, সন্ন্যাসীরচর, দক্ষিণ বহেরাতলা, শিরুয়াইল, নিলক্ষী ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তার পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত ও নদী ভাঙ্গন এলাকার পরিবারগুলোর মাঝে বন্যার শুরু থেকেই ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে ২য় দফায় পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে শিবচরের চরাঞ্চলের চরজানাজাত, বন্দরখোলা,কাঠালবাড়ি, মাদবরেরচর ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত হয়ে বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকায় অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। 

আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন আক্রান্ত হয়েছে বহেরাতলা দক্ষিণ, সন্ন্যাসীরচর, নিলক্ষি ও শিরুয়াইল ইউনিয়ন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবারের মাঝে খাবার সহায়তা বিতরণ করেছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিরা। 

সম্প্রতি মাদারীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বন্যা কবলিত ও নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন ও বন্দরখোলা ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। এই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এম রকিবুল হাসান, উপজেলা আওয়মী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে বন্যাকবলিত ও নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষের জন্য জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে বন্যাকবলিত ও নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষগুলো যেন কষ্ট না পায় সেজন্য সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী ও নবাগত জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন।

আরও পড়ুন: ফের মার্কিন যুদ্ধজাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরে!

বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বেপারী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতি বছরই এই সময় বন্যা আক্রান্ত হয় এবং নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং আমাদের এলাকার লোকের চাওয়া নদী রোধ করা। চিফ হুইপের নির্দেশক্রমে আমাদের প্রতি এলাকায় খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী স্যারের নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ ও খাবার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এম রকিবুল হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তিন ইউনিয়নের সেক্টর কমান্ডার ডা. মো.  সেলিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২ ইউনিয়নের সেক্টর কমান্ডার মোস্তাক খা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি  ও ৪ ইউনিয়নের সেক্টর কমান্ডার ইলিয়াস পাশা, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৩ ইউনিয়নের সেক্টর কমান্ডার মো. খায়রুজ্জামান খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক মুন্সী, বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বেপারী, মাদবরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী সুলতান মাহমুদ, দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ খালাসী, নিলখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াসিম, চরজানাজাত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশিদ মুন্সি, কাঁঠালবাডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক হাওলাদার, মাদবরেরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আ. হালিম রাঢ়ী, হাজী বদরুদ্দোজা বাদরু উকিলসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চিপ হুইপের নির্দেশে বন্যাকবলিত ও নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষগুলোর পাশে দাঁডিয়েছে। তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং চিফ হুইপের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করছে। 

এদিকে বন্যাকবলিত-নদী ভাঙ্গন ও ত্রাণ বিতরণের নিউজ প্রতিনিয়ত কাভারেজ দিচ্ছেন সাবেক প্রেসক্লাব একাংশের আহ্বায়ক ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক প্রণব কুমার সাহা অপূর্ব।

ইত্তেফাক/এএএম