নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে উপজেলার দূর্গমচরাঞ্চল চানঁপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, ইমামদীরকান্দি ও সদাগরকান্দি গ্রামের প্রায় ৭০টি বসত ভিটা। বিলিনের পথে রয়েছে আরও অসংখ্য ঘরবাড়ি। সেই সঙ্গে গত কয়েকদিনে অব্যাহত ভাঙনে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে প্রায় শত বিঘা ফসলি জমি। সব হারিয়ে মানবেতর দিন পাড় করছে নদী ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলো।
এদিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাহায্য সহযোগীতা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ অসহায় ওই পরিবারগুলো।
শুক্রবার সরজমিন, উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর, ইমামদীরকান্দি ও সদাগরকান্দি গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, ভিটাবাড়ী না থাকলে সেমাই চিড়া-মুড়ি দিয়ে কত দিন চলে। আগুন লাগলে অন্তত ভিটাটা তো থাকতো। মাথার ওপর কাগজ দিয়ে থাকতে পারতাম। নদী ভাঙ্গনে তো ভিটাবাড়িসহ সব কিছু কেড়ে নিলো। একটি থালা বাসনও রাখতে পারি নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে মেঘনায় এ ভাঙন। অনেকেই ভাঙনের আশঙ্কায় ঘর থেকে আসবাবপত্র, বিভিন্ন মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। নদী ভাঙ্গনরোধে দ্রুত প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আরও শত শত পরিবারসহ ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে যাবে।
চাঁনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোমেন সরকার বলেন, আমি ভাঙন এলাকা পরির্দশণ করে শুকনো খবারের ব্যবস্থা করেছি। ইউএনও’র মাধ্যমে সরকারি সাহায্য সহযোগিতার জন্য তালিকা প্রস্তুত করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে এলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চরমধুয়া ও চাঁনপুর ইউনিয়নে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব একনেকে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের এটি বাস্তবায়ন হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/এসি