ড. ফেরদৌস হাসান
সৈয়দা অন্তরা শবনম ও ফাহমিনা জাহান মুনা বাংলাদেশের মেয়ে বিশ্বের দুটি দেশে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। সৈয়দা অন্তরা শবনম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থান করছেন এবং সেখানে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ফাহমিনা জাহান মুনা মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন কানাডায়। তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় (এফডিএ) অডিট দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করছেন। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি ফাহমিনা জাহান মুনা ও সৈয়দা অন্তরা শবনম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন উত্তর আমেরিকাভিত্তিক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাইক্রোবায়োলজিস্টদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আইএসবিএম’। এটি স্বেচ্ছাসেবী, অলাভজনক এবং অরাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠনের সব সদস্য বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী এবং উত্তর আমেরিকার মাইক্রোবায়োলজিস্ট ছাড়াও মাইক্রোবায়োলজি সংক্রান্ত অন্যান্য পেশার বিশেষজ্ঞরাও এ সংস্থার আওতাভুক্ত।
ফাহমিনা জাহান মুনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ফাহমিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ২০০৩ সালে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন তত্কালীন অর্গানন বাংলাদেশ লিমিটেডে। এরপর যোগ দেন নোভার্টিস বাংলাদেশ লিমিটেডে। ২০১০ সালে ইমিগ্রেশন নিয়ে চলে যান কানাডার টরন্টোতে। আর ১০ জন ইমিগ্রান্টের মতোই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে শুরু করেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর স্কুল অফ কন্টিনিউ ইংস্টা ডিজের অধীনে এ কব্রিজিং কোর্স। কানাডায় সাফল্যের শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। কোর্স শেষে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে চাকরি শুরু করেন একটি ফার্মাসিউটিক্যাল টেস্টিং ল্যাবে।
সৈয়দা অন্তরা শবনম। ঢাকার গ্রীন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও লেভেল পাশ করার পর ২০০২ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে ভর্তি হয়। শুরু থেকেই বায়োলজিক্যাল সাইন্সে আগ্রহ থাকায় সে মেজর হিসেবে নিউরোসাইন্স পছন্দ করে। ২০০৬ সালে এই বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করার পর অন্তরা ঢাকার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স শুরু করে। মাস্টার্স থিসিসের বিষয় ছিল মেটা জেনমিক এনালাইসিস। শিশুদের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবে যে জীবাণু থাকে তা বিশ্লেষণ করে দেখাতে চেয়েছিল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে কীভাবে সেই জীবাণুর পরিবর্তন হয়। ২০১০ সালে মাস্টার্স শেষ করার পর অন্তরা আইসিডিডিআর.বিতে রিসার্চ অফিসার হিসেবে যোগ দেয় এবং এখানে কলেরার এপিডেমি ও লজিক্যাল সার্ভেল্যান্সটিমের অংশ হিসেবে কাজ শুরু। একই সঙ্গে সুস্থ শিশুদের অন্ত্রের ভেতর ভয়াবহ মাল্টি ড্রাগরেসিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্তের ওপরও একটি কাজ করে যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়। ২০১৩ তে অন্তরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুড মাইক্রোবায়োলজির ওপর কোর্স করে। অন্তরার দৃঢ় বিশ্বাস— বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মানব জাতির উদ্দেশ্য এবং উন্নতির জন্য। সে মনে করে যে করোনা ভাইরাস মহামারির জন্য আমরা বিশ্বব্যাপী যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলা করার জন্য বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংযুক্ত হওয়া দরকার, বিশেষ করে নারী বিজ্ঞানীদের। সম্প্রতি অন্তরা ডা. সেঞ্জতি সাহা এবং তার বিজ্ঞানীদের দল করোনা ভাইরাস জিনোমসি কোযেসিং কাজের দ্বারা মুগ্ধ এবং অনুপ্রাণিত। ভবিষ্যতে ডা. সাহার মতো সেও এক জন সফল নারী বিজ্ঞানী হতে চান।