উপকথা

কোরিয়ার লোককাহিনি ভূমিকম্প

অনেক দিন আগের কথা। একদিন আকাশের এক কোণ খানিকটা ঝুঁকে পড়ে। প্রচণ্ড শব্দে আকাশ নড়ে ওঠে। আকাশ-রাজার সে কী চিন্তা! তখনই প্রহরীদের ডাক পড়ে লালরঙা তামার অনেক খুঁটি তৈরির।

আকাশ-রাজার ইচ্ছা মস্ত বড় সব শক্ত খুঁটি আকাশকে ধরে রাখবে। সেই মতোই খুঁটিগুলো পৃথিবীর জমিতে পোঁতা ঠিক হয়। সেখানেও ভারি ঝক্কি। পৃথিবীর মাটি খুবই নরম। আর আকাশ তো লোহার মতো শক্ত। এমন নরম মাটিতে পোঁতা মস্ত খুঁটিগুলো আকাশের সব দিক কিভাবে সামলাবে!

আকাশ-রাজা সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষের খোঁজে আকাশ-পৃথিবী-পাতাল চষে ফেলে। আর মিলেও যায় এক বিশাল শক্তির মানুষ। নিমিষেই তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তাঁর দুই কাঁধে মস্ত সব খুঁটি। শক্ত খুঁটির ওপর গোটা আকাশটাই ভারি জোরদার হয়।

শক্তিশালী মানুষটার কাঁধে স্থির খুঁটিগুলোই হবে কেবল আকাশের ভারসাম্য। কোনোমতেই খুঁটি কাঁধ-বদল করা চলবে না। উলটোটা করলেই আকাশ বিকট শব্দে ভেঙে পড়বে।

সেই থেকেই পৃথিবীর বুকে শক্তিধর মানুষ কাঁধে খুঁটি নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে। আকাশ আর খুঁটি—দুই-ই ভীষণ ভারী। একদিন মানুষটার কাঁধ ব্যথায় ভরে ওঠে। এক নিমিষের জন্য কাঁধের খুঁটি বদল হয়। আচমকা আকাশের কোণে ঝাঁকি লাগে। আর গোটা পৃথিবী কেঁপে ওঠে। তখন থেকেই ভূমিকম্পের শুরু।

রূপান্তর : কুতুব আজাদ