আমরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি -----আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব সঠিক থাকলে কখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনিত ঘটতে পারে না। আমরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে স্বার্থ আদায়ের মধ্যে সফলতার কিছু নেই। বরং জনগণের আস্থা অর্জন করে তাদের সমর্থনে ক্ষমতায় থাকার মধ্যেই রয়েছে সার্থকতা।

তিনি গতকাল রবিবার বিকালে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, আমি ৩৬ বছর সংসদে আছি। এর মধ্যে ১৮ বছর মন্ত্রিত্বে ছিলাম। কিন্তু কখনোই পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগ করিনি। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াইনি। ক্ষমতাকে একচ্ছত্র করতে পুলিশের ওপর  চাপ প্রয়োগ করে বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতির যেমন উদ্ভব আমার দ্বারা ঘটেনি এবং এর দ্বারা ক্ষমতা অর্জনের মধ্যেও কোনো সফলতার অস্তিত্ব আমি খুঁজে পাই না। প্রশাসনের লোকজনকে বদলির হুমকি দিয়ে স্বার্থ হাসিলের ঘটনা এ দেশের রাজনৈতিক নেতাদের অভ্যাস। আবার প্রশাসনিক কর্মকর্তাও পদোন্নতির আশায় অতি উত্সাহী আচরণও করেন, যা কাম্য নয়। আমরা সব সময় বিবেকের নির্দেশকে মান্য করে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভায় থাকাকালে তিনি বলেছিলেন, আনোয়ার হোসেনের মতো একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা দরকার। কিন্তু তিনি জানতেন আমি তার সবকথা বা অনৈতিক নির্দেশ নাও শুনতে পারি। তাই চিন্তায় তিনি আর অগ্রসর হননি। আমরা নীতির বিপরীতে অবস্থান নেওয়া বা আপস  না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকি।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় আমাদের পিরোজপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো ভালো রয়েছে। যা ঐক্যের মধ্যদিয়ে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থা ক্রমাবনতিশীল। এতদিন পিরোজপুরের অবস্থা ভালো ছিল। কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আমাদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে এই মহামারির হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের সভাপতিত্বে এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান এম মতিউর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাঘা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা নাহার মিলন, বালিপাড়ার চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতি, ইন্দুরকানী নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিদুল হক, চণ্ডীপু্র নবগঠিত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন, পাড়েরহাটের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন হাওলাদার প্রমুখ।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বিকালে ইন্দুরকানী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ এবং আনসার ও ভিডিপি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণকাজের পৃথকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পৃথক এ কর্মসূচিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল ও জেলা আনসার কমান্ডান্টট মো. সাজ্জাদ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে চেক ও নগদ অর্থ এবং ঢেউটিন বিতরণ করেন। সংসদ সদস্য এর অনুকূলে ধর্ম মন্ত্রণালয় হতে প্রাপ্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত অর্থের চেক, সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের নগদ অর্থের চেক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক এ সময় উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

ইন্দুরকানী পৌঁছে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি উপজেলা সদরের তালুকদার বাড়িতে যান এবং সদ্যপ্রয়াত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরামুল কবির তালুকদার মজনুর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় ভাণ্ডারিয়া জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার,  ইন্দুরকানী জেপির আহ্বায়ক আসাদুল কবির স্বপন তালুকদার, সদস্যসচিব মো. শাহীন হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল আলম দোদুল, যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার আহমেদ দুলাল, উপজেলা মহিলা পার্টির সভানেত্রী রাজিয়া সুলতানা রানী, যুব সংহতির উপজেলা সভাপতি মজনু হোসেন রনি, ছাত্র সমাজের সভাপতি আক্তারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।