বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৬ লাখ ছাড়াল

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ লাখ পার হয়েছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে মোট ৬ লাখ ৭ হাজার লোকের। এর মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। শনিবার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আক্রান্ত ও মৃত্যু—উভয় দিকে বিশ্বে শীর্ষে আছে দেশটি। আর গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩২ হাজার।

যুক্তরাষ্ট্রের পর ৭৮ হাজার ৮৭২ মৃত্যু নিয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল আর ৪৫ হাজার ৩০০ মৃত্যু নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে যুক্তরাজ্য। ১০ মের পর থেকে গত শনিবার সবচেয়ে বেশি (৭ হাজার ৩৬০) জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। জুলাইয়ে এ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৪ হাজার ৮০০ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসে প্রতি ঘণ্টায় ২০০ জন বা প্রতি ১৮ সেকেন্ডে এক জনের মৃত্যু হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়, যা বিশেষভাবে বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তবে মৃতদের মধ্যে পূর্ণবয়স্ক ও শিশুরাও রয়েছে। এদিকে হংকংয়েও আবার করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রবিবার সেখানে শতাধিক লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।

এদিকে বিশ্বে শনিবার থেকে ২৪ ঘণ্টায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় এটিও রেকর্ড। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাসের মহামারি শুরুর পর গত সাড়ে সাত মাসে এই প্রথম এক দিনে আড়াই লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হলো। শনিবার সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।

রূপান্তরে আরো সংক্রামক? :বিশ্বব্যাপী এখন যে করোনা ভাইরাস তাণ্ডব চালাচ্ছে, এটি উহানে প্রথমবার শনাক্ত হওয়া সেই ভাইরাসের মতো আর নেই। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পথেই বদলে ফেলছে নিজের বৈশিষ্ট্য। ফলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই রূপান্তর কি ভাইরাসটিকে আরো সংক্রামক বা মানুষের জন্য আরো বেশি প্রাণঘাতী করে তুলছে? এটি কি করোনা ভ্যাকসিনের সফলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে?