রিজেন্টের নথিপত্রের খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুদক

রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের ব্যাপারে তথ্য নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি অনুসন্ধানী টিম। দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী টিম গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন স্বাস্থ্য ভবনে যায়। এরপর দুদক টিম বেলা সোয়া ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে। প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে টিম। তবে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি দুদক টিম।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুদকের অনুসন্ধানী টিম আসার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। বৈঠক শেষে দুদকের দলনেতা ও উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও কথা বলতে রাজি হননি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কথা বলার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে অনুরোধ করলে, দুদকের অনুসন্ধান চলছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান।

জানা গেছে, অনুসন্ধান টিম গতকাল দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে হঠাত্ করেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যায়। ১টা ৫৫ মিনিটে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কক্ষে প্রবেশ করে। পরে ৩টা ২৫ মিনিটে তারা কক্ষ থেকে বের হয়। বৈঠক চলাকালে কাউকে বের হতে এবং বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দুদক সূত্র জানায়, রিজেন্ট হাসপাতাল যে চুক্তির ভিত্তিতে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিত্সার অনুমতি পেয়েছিল, তার নথিপত্রের খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যায় দুদকের অনুসন্ধান টিম।

বৈঠক শেষে দুদকের দলনেতা ও উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে যে চুক্তি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সে চুক্তিসংক্রান্ত নথিপত্রের প্রয়োজনে আমরা এসেছিলাম। স্বাস্থ্যের ডিজি আশ্বাস দিয়েছেন সোমবার এসব নথি আমাদের কাছে হস্তান্তর করবেন।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল দেওয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের খবর পেয়ে র্যাব গত ৭ ও ৮ জুলাই অভিযান চালিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেয়। হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদও ছিল না। পরে ঐ হাসপাতালের অনুমোদন বাতিল করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১৩ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করে দুদক।